বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বিদ্যুৎ-গ্যাসের বাড়তি বিলের হিসাব কোথায়: আসিফ মাহমুদ

বিদ্যুৎ-গ্যাসের বাড়তি বিলের হিসাব কোথায়: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো না থাকলেও গ্রাহকদের বিল আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার হিসাব জনগণ এখনো পায়নি।’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ-গ্যাস সরকার আমাদের বিনা মূল্যে দেয় না। এগুলোর জন্য জনগণকেই টাকা দিতে হয়। অথচ বিদ্যুৎ থাকে না, কিন্তু আগে যে বিল এক হাজার ২০০ টাকা ছিল, এখন তা চার হাজার টাকা হয়ে গেছে। এই অর্থ কোথায় যায়, তার কোনো হিসাব আমরা আজ পর্যন্ত পাইনি।’ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ মন্ত্রী বিদ্যুতের পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে আইসিইউতে চলে গেছেন।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি কঠিন সঙ্কটময় সময় পার করছে। নির্বাচনের আগে জনগণকে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সংস্কার পায়নি। অনেক মানুষ তিনবেলা খাবারের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত।’ তিনি বলেন, ‘বাসায় বিদ্যুৎ নেই, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে, গ্যাসের চুলায় আগুন নেই, গরিবের কাজ নেই। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছে।’ গণভোটের প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর ১৮ কোটি মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যজোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও জনগণের সমর্থন নিয়ে তাদের অধিকার আদায়ের কথা বলা হবে।’ ‘কোনো বাধা, সঙ্কট, হুমকি, হামলা ও মামলাকে ভয় না করে আমরা আপনাদের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে থাকব’ বলে বক্তব্য শেষ করেন আসিফ মাহমুদ। পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

‘এমন পরিস্থিতি ৮৮ বছরে দেখিনি’: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষকে বিএনপিকে আর কখনো ভোট না দেয়ার কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেছেন, তার ৮৮ বছরের জীবনে তিনি কখনো এমন পরিস্থিতির কথা শোনেননি, যেখানে একটি সরকার গঠনের পরপরই মানুষ বলতে শুরু করে—এই সরকার টিকবে না।  রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, এত সকালে একত্রিত হয়ে তারা ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এলডিপি ও ১১ দলের পক্ষ থেকে তিনি উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এত সকালে এ ধরনের বিশাল জনসমাবেশ আয়োজন অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তার দাবি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে অলি আহমদ বলেন, তিনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন তার দলের নেতাকর্মীরা এত সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন কি না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাড়’—এখন এ বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী বলবেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে এলডিপি সভাপতি বলেন, তিনি আগে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো কাজ করবেন না বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এখন তিনি আগের অবস্থানে আছেন কি না, সে প্রশ্নও করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, দেশ ভালোভাবে পরিচালনার জন্য ঈমানদার ও সৎ মানুষকে বেছে নিতে হবে। বেইমান, মুনাফেক ও বিদেশি দালালদের দিয়ে দেশ পরিচালিত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ১১ দলের কর্মসূচির প্রসঙ্গে অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে ১১ দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করবে। প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষ করে তারা এখন দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি। তিনি সরকারকে সঠিক পথে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় অতীতে যেভাবে বিভিন্ন শাসক দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, সরকারকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হতে পারে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের সুশৃঙ্খল থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হবে। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, তারা কোনো ভোজ বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেননি; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে তারা মনে করেন। তিনি বলেন, সরকার সঠিক পথে না এলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে সরকারকে সেই বার্তা দেয়া শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মামুনুল হক সরকারকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে অতীতের স্বৈরশাসকদের মতো পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

‘এমন পরিস্থিতি ৮৮ বছরে দেখিনি’: অলি আহমদ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream