রিয়ালের জয়ের পরও বিতর্কে গুলেরের কনুই
৪-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন। তারা লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়ে এনেছে। অথচ ম্যাচ শেষে আলোচনায় রিয়ালের দাপুটে জয় কিংবা এমবাপ্পের গোল নয়। সব ছাপিয়ে আলোচনায় আর্দা গুলেরের একটি ‘কনুইয়ের আঘাত’, যা আদৌ ঘটেছে কি না, সেটিই মানতে নারাজ রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও!
রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল মরিনিওর দল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তালিকায় তিনে উঠেছে রিয়াল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এবং শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে সেভিয়া।
আগামী সপ্তাহেই বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো। তার আগে এমন জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা। কিন্তু সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসার দাবি, ম্যাচের ২৫ মিনিটেই একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার কথা ছিল রিয়ালের। সেটি হলে ম্যাচের গল্পটাও অন্য রকম হতে পারত।
ঘটনাটি প্রথমার্ধের। তখনো ম্যাচে গোল হয়নি। সেভিয়ার জেরার্দ ‘পিকে’ ফার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন গুলের। কিন্তু রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। গুলেরকে লাল কার্ডও দেখানো হয়নি।
এতেই ক্ষুব্ধ সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। ম্যাচ শেষে তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ৬৫ মিনিট একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাঁর দল।
গার্সিয়া প্লাসা বলেছেন, ‘আজ ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের একজন বেশি নিয়ে খেলার কথা ছিল। ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন। এরপর ম্যাচে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। এটা অবিশ্বাস্য। আমি নিজে ঘটনাটা দেখেছি। বিরতিতে পিকে আমাকে বলছিল, ও (গুলের) আমাকে মেরেছে। এটা পরিষ্কার লাল কার্ড।’
সেভিয়া কোচ এখানেই থামেননি, ‘হয়তো আমরা তারপরও জিততে পারতাম না। কিন্তু ৬৫ মিনিট আমাদের ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে খেলার কথা ছিল। আমার কাছে এটাই ম্যাচের সারসংক্ষেপ।’
তবে মরিনিওর চোখে ঘটনাটিই নাকি পড়েনি! শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশনের ফুটেজ থেকে শুরু করে নিজের কোচিং স্টাফের ধারণ করা ভিডিওতেও অভিযুক্ত আঘাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি বলে দাবি রিয়াল কোচের।
সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেছেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কোনো ছবি আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। কোনো ফুটেজ নেই। আমি টেলিভিশনের ফুটেজ চেয়েছি। আমাদের কোচিং স্টাফের ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও দেখতে চেয়েছি। কিন্তু লুইসকে (গার্সিয়া প্লাসা) যে ঘটনাটি এত ক্ষুব্ধ করেছে, তার কোনো ছবিই দেখতে পাইনি।’
মরিনিও অবশ্য দাবি করেছেন, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে রিয়াল অন্যায় সুবিধা পেলে সেটি স্বীকার করতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর ধারণা, উল্টো ঘটনাই বেশি ঘটবে।
পর্তুগিজ কোচের কথায়, ‘সত্যি বলতে, কোনো দিন যদি এমন কিছু ঘটে, যাতে আমরা সুবিধা পাই, সেটি স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয়, উল্টো ঘটনাই অনেক বেশি ঘটবে। প্রবণতাটা সে রকমই। আমি কিছুই দেখিনি। শনিবারের মধ্যে কেউ যদি আমাকে এমন কোনো পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ ছবি দেখাতে পারে, যা আমি এখনো দেখিনি এবং যে ঘটনা ঘটেনি বলে আমার খেলোয়াড় দাবি করছে, তাহলে আমি সেটি নিয়ে কথা বলব। তার আগে নয়।’
গুলেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এত প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তাঁর মতে, ৪-১ গোলে হারের পর বিতর্কিত একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা সেভিয়া কোচের জন্য বরং সুবিধাজনক।
মরিনিও বলেছেন, ‘আমি লুইসকে বুঝতে পারছি। তাঁর দল ৪-১ গোলে হেরেছে। এমন অবস্থায় কোচকে যদি এমন একটি ঘটনা নিয়ে চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়, যেটি ঘটেইনি, তাহলে তো তাঁর জন্য দারুণ ব্যাপার!’
ঘটনার সময়ই সহকারী কোচ পেদ্রো মাচাদোকে ফুটেজ দেখানোর কথা বলেছিলেন মরিনিও। কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘হয়তো অন্য কোনো ক্যামেরায় কিছু আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখিনি।’এরপর সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন রিয়াল কোচ, ‘আপনাদের কেউ কি ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে দেখেছেন? তাহলে বুঝতে পারছেন, এ নিয়ে এত প্রশ্ন করার এই আবেশটা আমার কাছে কেন অদ্ভুত লাগছে।’