শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ট্রোলিংকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান কৌশানী

ট্রোলিংকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চান কৌশানী

সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু যে মানুষটি সেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যান, তার জায়গায় না দাঁড়ালে কষ্টটা বোঝা কঠিন। এমনটাই মনে করেন কলকাতার অভিনেত্রী কৌশানী মুখার্জি। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময়ে নানা সমালোচনা ও ট্রোলিংয়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তবে এখন এসব নিয়ে আর বেশি ভাবতে চান না অভিনেত্রী।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, অভিনয় নিয়ে সমালোচনা, ‘বহুরূপী’ ছবির সাফল্য, সহশিল্পী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন কৌশানী।বর্তমানে টলিউডের ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন কৌশানী। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে আবারও ‘ঝিমলি’ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। প্রথম ছবিতে চরিত্রটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় এবার দায়িত্বও বেশি বলে মনে করছেন তিনি।নতুন ছবির শুটিং শুরুর আগে ‘বহুরূপী’র প্রথম পর্ব আবারও দেখেছেন কৌশানী। চরিত্রটির ভাষা ও উচ্চারণ ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও নিয়মিত সেই ভাষায় কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। ‘ঝিমলি’ চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতিও সহজ ছিল না বলে জানান কৌশানী। প্রতিদিন প্রায় দুই কেজি মেকআপ করতে হতো, যার পেছনে দুই ঘণ্টা সময় লাগত। মেকআপ তুলতেও লাগত প্রায় একই সময়। গরমের মধ্যে শুটিংয়ের সময় মেকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন কৌশানী। তার মতে, শিবপ্রসাদ খুবই ভালো অভিনেতা এবং ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে তার অভিনয় দেখে তিনি অনেক কিছু শেখেন। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে শিবপ্রসাদকে নিজের লুক ও স্টাইল আরও আপডেট করার পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সমালোচনা প্রসঙ্গে কৌশানী বলেন, একসময় তাকে শুধু সমালোচনা শুনেই যেতে হয়েছে। কারণ নিজেকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ তিনি পাননি। তার ভাষায়,‘সমালোচনা করা খুব সহজ। কারও জুতোয় পা না গলালে বোঝা যাবে না তার যন্ত্রণা।’ ট্রোল ও নেতিবাচক মন্তব্যকে এখন আর গুরুত্ব দেন না বলেও জানান তিনি। কৌশানীর মতে, একটা সময়ে বাণিজ্যিক সিনেমায় নারী চরিত্রগুলোকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হতো। নায়িকাদের অনেক সময় কয়েকটি সংলাপ, কিছু দৃশ্য ও গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ভালো চরিত্র ও সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন বলেও মনে করেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, তার সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি তার বাবা। মেয়েকে নিয়ে গর্ব করে পরিচয় দিতে বাবার কোনো ক্লান্তি নেই বলেও জানান কৌশানী। ২০২৪ সালে বাবা-মাকে একটি বাড়ি উপহার দিতে পেরেছেন, এটিকেও নিজের জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন কৌশানী। তাদের সম্পর্ককে ‘ভীষণ শক্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুজনেই একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের সময় একে অন্যের পাশে থেকেছেন। বনির সাফল্যে তিনি কখনোই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না বলেও স্পষ্ট করেন কৌশানী। বনি সেনগুপ্তকে নিয়ে কৌশানীর বক্তব্য, তিনি চান বনি ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাক। তার মতে, বনি দীর্ঘদিন প্রধান চরিত্রে কাজ করেছেন এবং নিজেকে ‘লিডিং মোস্ট হিরো’ বললে সেটি নিয়ে আপত্তির কিছু নেই।

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের একটি সার্বিয়ান অর্থোডক্স গির্জায় যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বসনিয়ান সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়। তাঁর শেষকৃত্যে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছে সার্বিয়া। সিএনএন জানিয়েছে, বেলগ্রেডের ছোট্ট সেন্ট লুক গির্জায় সকাল থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হন। অনেক সার্ব এখনো ম্লাদিচকে জাতীয় বীর হিসেবে বিবেচনা করেন। কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর সামরিক টুপি ও তলোয়ার। পাশে সামরিক পোশাক পরা সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। সার্বিয়ার সরকারপন্থী গণমাধ্যম জানিয়েছে, ম্লাদিচকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হবে এবং সার্বিয়ান অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক পোরফিরিয়ে শেষকৃত্যের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দেবেন। ম্লাদিচ ২৭ আগস্ট ৮৪ বছর বয়সে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে মারা যান। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁকে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় ৮ হাজারের বেশি বসনিয়াক মুসলিম পুরুষ ও কিশোর নিহত হন। সারায়েভোর দীর্ঘ অবরোধসহ আরও বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়। জানা গেছে, পরিবারের উদ্যোগে ম্লাদিচের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হলেও সার্বিয়া সরকার তাঁর মরদেহ দেশে আনতে বিমান পাঠায়। গত শনিবার দেশটির সেনাবাহিনীর একটি সরকারি স্থাপনাতেও তার প্রতি সামরিক শ্রদ্ধা জানানো হয়। ম্লাদিচকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানোর ঘটনায় ইইউ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস সার্বিয়ায় তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করে বলেছেন—ম্লাদিচের মৃত্যুকে ঘিরে যে মহিমান্বিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইইউ-এর মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ অবশ্য সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, সার্বরা কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার এবং সব ঘটনার জন্য তাঁদেরই দায়ী করা হয়। ১৯৯৫ সালে স্রেব্রেনিৎসায় জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ আশ্রয়’ দখল করে সার্ব বাহিনী। সেখানে পুরুষ ও কিশোরদের আলাদা করে হত্যা এবং তাদের মরদেহ গণকবরে পুঁতে ফেলা হয়। বসনিয়া যুদ্ধের পুরো সময় এক লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। সার্বিয়া এখনো স্রেব্রেনিৎসার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকার করে না। ম্লাদিচের মৃত্যুর পর তার সমর্থকেরা বেলগ্রেডে শোকসভা, দেয়ালচিত্র ও মশাল প্রজ্বলনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। এই ঘটনায় সার্বিয়ার ইইউ সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

ইইউর আপত্তি উপেক্ষা করে ম্লাদিচের শেষকৃত্য
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream