বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রিয়ালের জয়ের পরও বিতর্কে গুলেরের কনুই

রিয়ালের জয়ের পরও বিতর্কে গুলেরের কনুই

৪-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করেছেন। তারা লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধানও কমিয়ে এনেছে। অথচ ম্যাচ শেষে আলোচনায় রিয়ালের দাপুটে জয় কিংবা এমবাপ্পের গোল নয়। সব ছাপিয়ে আলোচনায় আর্দা গুলেরের একটি ‘কনুইয়ের আঘাত’, যা আদৌ ঘটেছে কি না, সেটিই মানতে নারাজ রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও! রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতল মরিনিওর দল। ২১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার তালিকায় তিনে উঠেছে রিয়াল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ১ পয়েন্ট এবং শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে সেভিয়া। আগামী সপ্তাহেই বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো। তার আগে এমন জয় রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথা। কিন্তু সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসার দাবি, ম্যাচের ২৫ মিনিটেই একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার কথা ছিল রিয়ালের। সেটি হলে ম্যাচের গল্পটাও অন্য রকম হতে পারত। ঘটনাটি প্রথমার্ধের। তখনো ম্যাচে গোল হয়নি। সেভিয়ার জেরার্দ ‘পিকে’ ফার্নান্দেজের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান রিয়ালের তুর্কি মিডফিল্ডার আর্দা গুলের। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন গুলের। কিন্তু রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। গুলেরকে লাল কার্ডও দেখানো হয়নি। এতেই ক্ষুব্ধ সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাসা। ম্যাচ শেষে তাঁর অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ৬৫ মিনিট একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তাঁর দল। গার্সিয়া প্লাসা বলেছেন, ‘আজ ২৫ মিনিট থেকেই আমাদের একজন বেশি নিয়ে খেলার কথা ছিল। ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন। এরপর ম্যাচে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। এটা অবিশ্বাস্য। আমি নিজে ঘটনাটা দেখেছি। বিরতিতে পিকে আমাকে বলছিল, ও (গুলের) আমাকে মেরেছে। এটা পরিষ্কার লাল কার্ড।’ সেভিয়া কোচ এখানেই থামেননি, ‘হয়তো আমরা তারপরও জিততে পারতাম না। কিন্তু ৬৫ মিনিট আমাদের ১১ জনের বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে খেলার কথা ছিল। আমার কাছে এটাই ম্যাচের সারসংক্ষেপ।’ তবে মরিনিওর চোখে ঘটনাটিই নাকি পড়েনি! শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশনের ফুটেজ থেকে শুরু করে নিজের কোচিং স্টাফের ধারণ করা ভিডিওতেও অভিযুক্ত আঘাতের কোনো প্রমাণ খুঁজে পাননি বলে দাবি রিয়াল কোচের। সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেছেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটির কোনো ছবি আমাকে কেউ দেখাতে পারেনি। কোনো ফুটেজ নেই। আমি টেলিভিশনের ফুটেজ চেয়েছি। আমাদের কোচিং স্টাফের ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজও দেখতে চেয়েছি। কিন্তু লুইসকে (গার্সিয়া প্লাসা) যে ঘটনাটি এত ক্ষুব্ধ করেছে, তার কোনো ছবিই দেখতে পাইনি।’ মরিনিও অবশ্য দাবি করেছেন, রেফারির কোনো সিদ্ধান্তে রিয়াল অন্যায় সুবিধা পেলে সেটি স্বীকার করতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে তাঁর ধারণা, উল্টো ঘটনাই বেশি ঘটবে। পর্তুগিজ কোচের কথায়, ‘সত্যি বলতে, কোনো দিন যদি এমন কিছু ঘটে, যাতে আমরা সুবিধা পাই, সেটি স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমার মনে হয়, উল্টো ঘটনাই অনেক বেশি ঘটবে। প্রবণতাটা সে রকমই। আমি কিছুই দেখিনি। শনিবারের মধ্যে কেউ যদি আমাকে এমন কোনো পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ ছবি দেখাতে পারে, যা আমি এখনো দেখিনি এবং যে ঘটনা ঘটেনি বলে আমার খেলোয়াড় দাবি করছে, তাহলে আমি সেটি নিয়ে কথা বলব। তার আগে নয়।’ গুলেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এত প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন মরিনিও। তাঁর মতে, ৪-১ গোলে হারের পর বিতর্কিত একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা সেভিয়া কোচের জন্য বরং সুবিধাজনক। মরিনিও বলেছেন, ‘আমি লুইসকে বুঝতে পারছি। তাঁর দল ৪-১ গোলে হেরেছে। এমন অবস্থায় কোচকে যদি এমন একটি ঘটনা নিয়ে চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়, যেটি ঘটেইনি, তাহলে তো তাঁর জন্য দারুণ ব্যাপার!’ ঘটনার সময়ই সহকারী কোচ পেদ্রো মাচাদোকে ফুটেজ দেখানোর কথা বলেছিলেন মরিনিও। কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘হয়তো অন্য কোনো ক্যামেরায় কিছু আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই দেখিনি।’এরপর সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন রিয়াল কোচ, ‘আপনাদের কেউ কি ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে দেখেছেন? তাহলে বুঝতে পারছেন, এ নিয়ে এত প্রশ্ন করার এই আবেশটা আমার কাছে কেন অদ্ভুত লাগছে।’

রাফিনিয়ার আগুনে ছন্দ, উড়ছে বার্সা

রাফিনিয়া দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন লা লিগার নতুন মৌসুমে। বার্সেলোনা লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোল জিতেছে। ম্যাচে তৃতীয় গোলটি দলের হয়ে করেন রাফিনিয়া। এতে মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে গেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।  ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’ স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতাব্দীতে লা লিগার কোনো মৌসুমে দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয় গোল করা মাত্র দ্বিতীয় বার্সেলোনা খেলোয়াড় রাফিনিয়া। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন মেসি; তাও দুইবার। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে দলের প্রথম চার লা লিগা ম্যাচেই ছয়টি করে গোল করেছিলেন মেসি। প্রায় এক যুগ পর সেই কীর্তিতে এবার ভাগ বসালেন রাফিনিয়া।  এলচের বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে মৌসুম শুরু করেছিলেন রাফিনিয়া। এরপর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে একটি গোল করার পর রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে করেন আরও দুই গোল। সর্বশেষ ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গোল করে প্রথম চার ম্যাচেই নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান তিনি। এই গোলের সুবাদে লা লিগার চলতি মৌসুমের গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন রাফিনিয়া। তার চেয়ে এক গোল পিছিয়ে আছেন রায়ো ভায়েকানোর স্ট্রাইকার কামেয়ো। তবে মেসির কীর্তি ছোঁয়াই রাফিনিয়ার শেষ লক্ষ্য নয়। সামনে আরও বড় একটি রেকর্ডের হাতছানি রয়েছে তার। বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার কীর্তি এখন পর্যন্ত রয়েছে কেবল সেসার রদ্রিগেজ ও জালাতান ইব্রাহিমোভিচের। পরের ম্যাচে গোল করতে পারলে সেই বিশেষ তালিকায় তাদের সঙ্গে নাম লেখাবেন রাফিনিয়াও। 

রাফিনিয়ার আগুনে ছন্দ, উড়ছে বার্সা

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের হোঁচট

মৌসুমের দারুণ শুরুর পর হোঁচট খেল রিয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে যোগ করা সময়ে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের শট ঠেকিয়ে দেন বেতিস গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। ফিরতি বলও ক্লিয়ার করে দেন মার্ক বার্ত্রা। তবে পেনাল্টি মিস বিতর্কের কেন্দ্রে নয়, বরং বার্ত্রার আগেভাগে বক্সে ঢুকে পড়া। রিয়াল সমর্থকদের দাবি, পেনাল্টি নেওয়ার আগে বার্ত্রা বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। ফিরতি বল থেকে এমবাপ্পেকে গোলের আরেকটি সুযোগ না দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি পুনরায় নেওয়া উচিত ছিল। ভিএআর পর্যালোচনার পর অবশ্য রেফারি পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেননি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো জানিয়েছে, পেনাল্টি নেওয়ার আগে বার্ত্রা বক্সে ঢুকেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এমবাপ্পে শট নেওয়ার মুহূর্তে তার কোনো পা মাটিতে ছিল না। এ কারণেই সেটিকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে ধরা হয়নি। ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, পেনাল্টি কিক নেওয়ার সময় অন্য খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট অবস্থান মেনে চলতে হয়। তবে কোনো খেলোয়াড় আগেভাগে বক্সে ঢুকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনাল্টি পুনরায় নিতে হবে, এমন নয়। ওই খেলোয়াড়ের অবস্থান ও পরবর্তী ঘটনায় তার প্রভাবও বিবেচনা করা হয়। তাই বার্ত্রার আগাম প্রবেশ থাকলেও, তার অবস্থানকে শাস্তিযোগ্য অনুপ্রবেশ হিসেবে না দেখায় এমবাপ্পেকে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই হারের ফলে রিয়ালের টানা তিন জয়ের শুরু থেমে গেল। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। ৩ ম্যাচে সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ম্যাচে রিয়াল একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট পোস্টে লাগে। এমবাপ্পের দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন নাতান ও বার্ত্রা, আরেকটি শট লাগে ক্রসবারে। ৮৭ মিনিটে কার্লোস এস্পির বাইসাইকেল কিক থেকে গোল হলেও অফসাইডের কারণে ভিএআরে সেটি বাতিল হয়। বেতিসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ট্রয় পারট। ম্যাচ শেষ হওয়ার নয় মিনিট আগে নেলসন দেওসার হেড কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন পারট। হারের পর রেফারিং নিয়ে অভিযোগ করেননি রিয়াল কোচ হোসে মরিনিও। তার মতে, দল যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করেছিল এবং জয়ের যোগ্যও ছিল। তবে সুযোগ তৈরি করলেই যে জয় নিশ্চিত হয় না, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।

এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের হোঁচট
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream