শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আগাম ধান কাটার পরামর্শ

ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, আগাম ধান কাটার পরামর্শ

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত সার্কুলেশনটি অবশেষে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং যেসব কৃষক শীতকালীন নতুন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির কথা ভাবছেন, তাদেরকে বৃষ্টি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  আরও পড়ুনআরও পড়ুনঢাকার আবহাওয়া আজ যেমন থাকবে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের (বিডব্লিউওটি) দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। বিডব্লিউওটি-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিতে পারে। পরবর্তীতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।  প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পূর্বাভাস হওয়ায় এর সঠিক গতিপথ, শক্তি ও আঘাতের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। সংস্থাটি জানায়, যদিও সিস্টেমটির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার ঝুঁকি এখন পর্যন্ত কম, তবুও এর পরোক্ষ প্রভাবে সারা দেশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর থেকে ১ ও ২ নভেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠার কারণে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোর জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের সতর্কবার্তা অনুসরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, যেখানে আঘাত করতে পারে বিডব্লিউওটি আরও জানায়, এদিকে সম্ভাব্য এই বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের কৃষি খাতে ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেলে পচন ধরা, অঙ্কুরোদ্গম হওয়া এবং গাছ মাটিতে হেলে পড়ার মতো ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে যেসব জমির ধান পেকে গেছে, সেগুলো আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব কৃষক শীতকালীন নতুন সবজি চাষ বা বীজতলা তৈরির কথা ভাবছেন, তাদেরকে বৃষ্টি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেসব জমিতে ইতোমধ্যেই রবি ফসল বা সবজি রয়েছে, সেখানে পানি জমা রোধে নালা পরিষ্কার করে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। কাঁচা ফসল, বীজ ও সার বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ফসল পরিবহণের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream