মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো

পুতিনের জন্মদিনে ইউক্রেনে রুশ হামলায় লণ্ডভণ্ড শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলাকে ইউক্রেনের ওপর অন্যতম ‘জঘন্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবারের এ হামলায় শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভের প্রিলুকি শহরে। সেখানে রাশিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেয়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার সকালে টেলিগ্রামে জানায়, প্রিলুকিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রাজধানী কিয়েভে একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে রুশ বিমান হামলায় আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা চারে উন্নীত করেছে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহভস্কি দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা ২৮ বলে জানিয়েছিলেন। যার মধ্যে প্রিলুকির হামলায় নিহত ২০ জন অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় কিয়েভের প্রসিকিউটররা জানান, একটি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে কিয়েভের উপকণ্ঠে দুই জন নিহত হয়েছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সারাদেশে হামলায় আহত হয়েছেন ১০০ জন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনের সঙ্গে হামলার সময় মিলে গেছে। রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘পুতিন নিজেকে যে জন্মদিনের উপহার দিয়েছেন, তা হলো শিশু ও মানুষ হত্যা’। এর আগে অনলাইনে দেওয়া মন্তব্যে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ব্যাপক এই হামলায় রাজধানী কিয়েভ এবং মধ্যাঞ্চলের ওলেক্সান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুক শহরেও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, রাতভর ইউক্রেনে মোট ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এ ছাড়া ছোড়া হয়েছে কয়েক ডজন শাহেদ হামলাকারী ড্রোন। জেলেনস্কি বলেন, রুশরা বেদনাদায়ক ও প্রদর্শনমূলকভাবে আঘাত হানতে চেয়েছিল। এটি ছিল অন্যতম এক জঘন্য হামলা।

‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত। এমনটাই বলেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখনও ব্যর্থ হওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ওভাল অফিসে বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, আমি জানি না’। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঘোষণা করবে। ট্রাম্প বলেন, নোবেল কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি পরিচিতি বা সুনাম রয়েছে। গত বছর দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন সেই সময় এসেছে’। তবে গতবার প্রাপক নিজেই এটিকে পরোক্ষভাবে আমাকে দেওয়ায় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম, যিনি বলেছিলেন যে ইতিহাসে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এর বেশি যোগ্য নয়। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি জানুয়ারিতে ট্রাম্পকে দেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি যাচাই করার কোনও উপায় নেই। ট্রাম্প যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটির পক্ষ তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও এর মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানও ঘটাতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক।

‘২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আমারই পাওয়া উচিত’: ট্রাম্প

ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে খুব শিগগির হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।  তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিরতি দিয়ে দিয়ে ইরানে হামলা চালাচ্ছে। এ সংঘাতকে যুদ্ধ বলা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি একে ‘সামরিক সংঘাত’ বলতে পছন্দ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই এটিকে যুদ্ধ বলেন না। আমিও এটিকে সামরিক সংঘাত বলি। কারণ, এটি আমাদের জন্য ছোটখাটো বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিরতি দিয়ে দিয়ে হামলা’ চালাচ্ছে। তার দাবি, সম্প্রতি ইরানের রাডারব্যবস্থায় হামলার আগে কয়েক দিন সেখানে সক্রিয় কোনো লড়াই হয়নি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন লড়াই করছি না। কোনো লড়াই হচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের সুরক্ষায় থাকা ইরানের রাডার, উড়োজাহাজ ও অন্যান্য ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া মাইন অপসারণকারী জাহাজ দিয়ে হরমুজ প্রণালির মাইনও সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রেখেছে। তার ভাষ্যমতে, এতে ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্য সুরক্ষিত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। আমরা সেটিই করেছি। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। কারণ, তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে আপনারা হয়তো আর এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না।’ ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগির পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, পিকঅ্যাক্সসহ ইরানের বিভিন্ন জায়গায় কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকঅ্যাক্স পর্বত ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা। পাহাড়ের শত শত মিটার পুরু গ্রানাইটের নিচে এখানে দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থাকতে পারে।  তবে ইরানের দাবি, এটি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ তৈরি ও সংযোজনের জন্য ব্যবহৃত হয়। গভীর ভূগর্ভে থাকায় স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন। এ কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। চলমান সংঘাত কবে শেষ হবে, তা জানতে চাইলে ট্রাম্প কোনো সময়সীমা বলেননি। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের প্রধান লক্ষ্য অর্জন করেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা ইতিমধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয়টি অর্জন করেছি—ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরান থেকে সরে গেলেও দেশটির অবকাঠামো ও সক্ষমতা পুনর্গঠনে তেহরানের ২৫ বছর সময় লাগবে।

ইরানের পিকঅ্যাক্সে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream