কমেছে ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ডাকাতি, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ দেশের প্রধান সাতটি অপরাধের ক্যাটাগরিতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে মামলার সংখ্যা অনেক কমেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন ও অপহরণের ঘটনা কমেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতটি ক্যাটাগরিতে সম্মিলিত মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ৬৬১টি থেকে কমে এ বছরের একই সময়ে ১৭ হাজার ৩৩৫টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ১ হাজার ৩২৬টি মামলা বা প্রায় ৭.১ শতাংশ কমেছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর মেয়াদের আলাদা একটি তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত সাতটি অপরাধ ক্যাটাগরিতে রেকর্ড করা ঘটনার সংখ্যা ২০২৫ সালের ৬ হাজার ৯১টি থেকে কমে ২০২৬ সালে ৫ হাজার ৫৩২টিতে নেমে এসেছে, যা ৫৫৯টি মামলা বা ৯.২ শতাংশ কমেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কয়েকটি প্রধান অপরাধ কমেছে। এর ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে উন্নতি হয়েছে। এই তথ্যের বিশ্লেষণ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির চিত্র তুলে ধরে।
দেশে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পুলিশের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী খুন, অপহরণ ও নারী নির্যাতনসহ অন্যান্য অপরাধ গত বছরের তুলনায় অনেক কমেছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে এই উন্নতির কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের নয় মাসে ৬২টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ২০২৬ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৭টিতে। ৪৫টি মামলা কমে যাওয়ার এই ঘটনাটি জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদের জন্য তালিকাভুক্ত সাতটি ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে বড় আনুপাতিক পতন, যা প্রায় ৭২.৬ শতাংশ কমেছে।
ত্রৈমাসিক তথ্য অনুযায়ীও দাঙ্গার ঘটনা কমেছে, যেখানে মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৯টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ৫টিতে এসেছে, যা ৪৪.৪ শতাংশ কমেছে।
নয় মাসের তুলনামূলক চিত্রে ডাকাতির সংখ্যাও অনেক কমেছে। এই ক্যাটাগরিতে মামলা ৫৩৮টি থেকে কমে ৩৮৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১৫১টি মামলা বা ২৮.১ শতাংশ।
একই ক্যাটাগরিতে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেখা গেছে, যা ১৭১টি ডাকাতির মামলা থেকে কমে ১২৩টিতে নেমে এসেছে-এটিও প্রায় ২৮.১ শতাংশ কমেছে ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে খুনের মামলা ৮.৭ শতাংশ কমেছে। মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরের ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ২ হাজার ৬৫৯টিতে নেমে এসেছে, অর্থাৎ ২৫৪টি মামলা কমেছে।
ত্রৈমাসিক তুলনামূলক চিত্রেও হ্রাস দেখা গেছে, যেখানে খুনের মামলা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ৯৮০টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ৮৮১টিতে পৌঁছেছে। ৯৯টি মামলা কমেছে যা প্রায় ১০.১ শতাংশ।
উভয় সময়েই অপহরণের ঘটনা কমেছে। নয় মাসের মোট সংখ্যা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৩টি মামলা বা ৫.৩ শতাংশ কমেছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে অপহরণের ঘটনা ২৯৫টি থেকে কমে ২৪২টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ৫৩টি মামলা বা ১৮ শতাংশ।
২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে শিশু নির্যাতনের মামলা ১২.৩ শতাংশ কমেছে। মামলার সংখ্যা ৩,৫৯১টি থেকে কমে ৩,১৫১টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৪০টি মামলা কমেছে।
ত্রৈমাসিক চিত্রেও একই ধারা দেখা গেছে, যেখানে মামলা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৪৩২টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ১ হাজার ২৩৮টিতে নেমেছে, যা ১৯৪টি মামলা বা ১৩.৫ শতাংশ কমেছে।
নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে চলতি বছরের একই সময়ে ৮ হাজার ১৭৮টিতে পৌঁছেছে। এতে ১ হাজার ৮৪টি মামলা কমেছে।
জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর মেয়াদে ২০২৫ সালে দস্যুতা ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে ২০২৬ সালে ১ হাজার ৩৭৪টিতে দাঁড়িয়েছে। ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে এটি ৫১১টি থেকে কমে ৪৬৭টিতে নেমে এসেছে, যা ৪৪টি মামলা বা প্রায় ৮.৬ শতাংশ কমেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে চুরির ঘটনাতেও রেকর্ডসংখ্যক কমেছে। রেকর্ডকৃত ঘটনা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরের ২ হাজার ৬৯৩টি থেকে কমে ২০২৬ সালের একই সময়ে ২ হাজার ৫৭৬টিতে নেমে এসেছে। ১১৭টি মামলা কমার এই হার প্রায় ৪.৩ শতাংশ। হ্রাস পাওয়ার পরও, সরবরাহকৃত ত্রৈমাসিক তুলনামূলক তথ্যে মামলার সংখ্যার দিক থেকে চুরিই ছিল সর্ববৃহৎ ক্যাটাগরি।
ত্রৈমাসিক তথ্যে অন্তর্ভুক্ত সাতটি ক্যাটাগরি জুড়ে রেকর্ড করা ঘটনা ৯.২ শতাংশ কমেছে, যেখানে নয় মাসের তুলনামূলক চিত্রে হ্রাস ছিল ৭.১ শতাংশ।