রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
দুর্গাপূজার ছুটিতেও আমদানি-রফতানি সীমিত পরিসরে চলবে

দুর্গাপূজার ছুটিতেও আমদানি-রফতানি সীমিত পরিসরে চলবে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির মধ্যেও দেশের কাস্টমস হাউস ও স্টেশনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির দিনগুলোতে এ কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম। নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, মোংলা, ভোমরাসহ বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনের কমিশনারদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন চেম্বার অব কমার্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার, চট্টগ্রাম চেম্বার এবং তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এনবিআরের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি ছুটির কারণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন কমানো এবং দেশের বাণিজ্য সচল রাখা। তবে নির্দেশনায় ছুটির দিনগুলোতে কোন কোন সেবা কী সময়সূচিতে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। বিডি প্রতিদিন/এআরএ

অবৈধ ফোন বন্ধে আবার উদ্যোগ, বৈধ সেটের দাম কমানোর দিকেও নজর

তৃতীয়বারের মতো এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। তবে অবৈধ ফোন বন্ধের আগে বৈধ ফোনের দাম কমানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অবৈধ মুঠোফোন সেট বন্ধে তৃতীয়বারের মতো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, বাজারে বৈধ মুঠোফোন সেটের দাম না কমিয়ে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করতে চায় না সরকার। এনইআইআর হলো সরকারের একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলো মুঠোফোনের আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) যাচাই করে অবৈধ বা চুরি যাওয়া ফোন বন্ধ করতে পারে। দেশে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’ এই দুই ধরনের মুঠোফোন সেট বিক্রি হয়। তুলনামূলক কম দামের কারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশে আসা ফোনসেটের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তবে এতে বছর বছর রাজস্ব হারায় সরকার। এই প্রবণতা কমাতে ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম এনইআইআর চালু করে বিটিআরসি। তবে পরে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ফিচার বাদ রাখা হয়। পরে অবৈধ ফোনসেটের কারণে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনইআইআর পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায়ও ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। বিটিআরসি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি সব ফিচারসহ এনইআইআর চালুর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনানুষ্ঠানিকভাবে মুঠোফোন বিক্রেতাদের বিক্ষোভের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার ফিচার ছাড়াই ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। বিটিআরসির নথিপত্র বলছে, চলতি বছরের ৯ জুন অর্থনীতি ও জননিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে এনইআইআর পুরোপুরি চালুর বিষয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দেয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। এরপর ২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এবং ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। সর্বশেষ সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এনইআইআর চালুর প্রস্তাব করা হয়। সেই হিসেবে এনইআইআর চালুর তৃতীয়বারের চেষ্টা হবে এটি। বিটিআরসি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই ধাপে তারা এনইআইআর বাস্তবায়ন করতে চান। প্রথম ধাপে বৈধভাবে উৎপাদিত ও আমদানি করা মুঠোফোন সেট শনাক্ত করতে চায় তারা। এই ধাপে সেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা (ডি-রেজিস্ট্রেশন) থাকবে না। পরে দ্বিতীয় ধাপে ডি-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত বা সর্বশেষ মালিকের মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাড়াহুড়া চায় না সরকার বিটিআরসি সূত্র বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর বিষয়ে সরকারের অনুমোদন নিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, এনইআইআর চালু নিয়ে সরকার তাড়াহুড়া করতে চায় না। এই কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনার বিষয় রয়েছে। সরকার সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এ ছাড়া অবৈধ মুঠোফোন বন্ধের আগে বৈধ ফোনের দাম কমানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রথম আলোকে বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে অবৈধ ফোন বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে বন্ধ করার আগে ক্রেতাদের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে তা বিবেচনায় নিতে হবে। কম দামে বৈধ সেট সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক সহজ হবে। সরকার সেই লক্ষ্যে হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈধ সেটের দাম আরও বাড়বে এক দশকে দেশে মুঠোফোন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্প গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কারখানাগুলো মূলত নিম্ন ও মধ্যম দামের ফোন সংযোজন করে থাকে। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির অনেক প্রিমিয়াম মডেল স্থানীয়ভাবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। জটিল সরবরাহব্যবস্থা, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ এবং সীমিত বাজার চাহিদা এর অন্যতম কারণ। চলতি বছরের শুরুতে বৈধভাবে আমদানি করা মুঠোফোনের দাম কমাতে সরকার শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, বৈধ ও অবৈধ ফোনসেটের দামের ব্যবধান কমে এলে ক্রেতারা বৈধ পথে আমদানি করা সেট কিনতে উৎসাহিত হবেন। তবে বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখা যায়নি। শুল্ক কমানোর আগেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা তখন এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের বাজারে বৈধ ফোনের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরুতে দেশে যে ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনটি ১৩ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেটি সেপ্টেম্বর নাগাদ দাম বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ সর্বনিম্ন দামের স্মার্টফোনের দাম ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উৎপাদকেরা। এক্সেল টেলিকমের (স্যামসাং ব্র্যান্ড) নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন টিপু প্রথম আলোকে বলেন, মেমোরি চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ ও দাম নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মেমোরি চিপ উৎপাদন করে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই চাহিদা অনুযায়ী চিপ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, বাড়ছে সেটের দাম। ক্রেতারা কোথায় যাবে আনঅফিশিয়াল মুঠোফোনের সবচেয়ে বড় সুবিধা সেটি অফিশিয়াল সেটের চেয়ে বেশ খানিকটা কমদামে পাওয়া যায়। গ্রাহকেরা তাই দাম বৃদ্ধির খড়্গ এড়াতে এমন ফোনে ঝুঁকছে। তবে বৈধ মুঠোফোন উৎপাদকদের দাবি, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আনঅফিশিয়াল ফোনের অন্তত ৭৫ শতাংশই রিফার্বিশড এবং সেকেন্ডহ্যান্ড। একটি বৈধ ফোনসেট কিনে সেটি গ্রাহক যতটা মেয়াদে ব্যবহার করতে পারেন, আনঅফিশিয়াল ফোনে সেই মেয়াদ তাঁরা পাচ্ছেন না। ফলে সল্পমেয়াদে সুবিধা পেতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে গ্রাহককে অফিশিয়াল সেট কিনতে উৎসাহিত করতে হলে দাম কমানোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞেরা। তাঁরা বলছেন, মুঠোফোনের দাম কমানো না গেলে এনইআইআর বাস্তবায়নও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দেশ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক কমিয়ে মুঠোফোনের দাম হাতের নাগালে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। ক্যামেরা, ডিসপ্লে প্যানেল, ব্যাটারিসহ ইত্যাদি বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক কমাতে পারলে দেশীয় বাজারে তৈরি হওয়া সেটের দাম বাজেটের মধ্যে থাকতে পারে। দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে সেট বিক্রি অনুৎসাহিত করা, এমনকি এনইআইআর বাস্তবায়নও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যেতে পারে।

অবৈধ ফোন বন্ধে আবার উদ্যোগ, বৈধ সেটের দাম কমানোর দিকেও নজর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। এসময় অতীতে দেশটি থেকে তেমন কোনো সহায়তা বাংলাদেশ পায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের জন্য আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার।’ আমির খসরু আরও বলেন, ‘অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহায়তা পাওয়া উচিত।’ বুধবার সকালে ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, ‘আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ সবাই একমত হয়েছে যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তারা মনে করছে, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ কারণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এসব সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়িয়ে সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে। জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের যেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টের অ্যাবিলিটি বাড়ানো দরকার।’ রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে। ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন। তিনি বলেন, সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন, তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন। বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) (এইচএস হেডিং ৮৭.০৩-এর সংশ্লিষ্ট সব এইচএস কোড) আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯ অনুযায়ী আমদানিনিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে সংসদে নতুন তথ্য
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream