রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সৌদি পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি



সৌদি পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি

পটুয়াখালীর বাউফলে সৌদি আরবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মিজান হাওলাদার (৩৫) ও তাঁর সহযোগী মেরিনা আক্তারের (৩০) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের প্রতারণায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রবাসী ও তাঁদের পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভুয়া ভিসায় সৌদি পাঠানো, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং টাকা ফেরত চাইলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম (২৪)।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজান হাওলাদার বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউনুছ মাস্টারের ছেলে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মনিরুলের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোনো বৈধ আকামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তাঁকে ভুয়া ভিসায় সৌদি পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে এবং আকামা-সংক্রান্ত চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে প্রায় দুই মাস পর মনিরুল নিজের খরচে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা কালক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপন করে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। গত ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযুক্তদের ভাড়া বাসার সামনে পাওনা টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় টাকা না দিয়ে মনিরুলকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মিজান সৌদি আরবে সাধারণ চাকরি করলেও দেশে এসে নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয়ের কথা বলে বেকার যুবকদের বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। মিজানের প্রলোভনে পড়ে সৌদি যাওয়া অনেক প্রবাসী বর্তমানে আকামা ও কাজের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি কারও কারও পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় রেখে মরুভূমিতে ফেলে আসার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. মিজান হাওলাদার দাবি করেছেন যে তিনি কাউকে বিদেশে পাঠাননি এবং কারও কাছ থেকে কোনো টাকাও নেননি। তাঁর মতে, এলাকার একটি পক্ষ সামাজিকভাবে তাঁকে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে মিজানের সম্পদ বৃদ্ধি পেলেও অভিযোগের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, পাওনা টাকা ফেরত এবং আটকে রাখা পাসপোর্ট উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশের বক্তব্য বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো কিছু নিশ্চিত করা যায়নি।

বিষয় : সৌদি পাঠানো টাকা আত্মসাত ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


সৌদি পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর বাউফলে সৌদি আরবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মিজান হাওলাদার (৩৫) ও তাঁর সহযোগী মেরিনা আক্তারের (৩০) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের প্রতারণায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রবাসী ও তাঁদের পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভুয়া ভিসায় সৌদি পাঠানো, পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং টাকা ফেরত চাইলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম (২৪)।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজান হাওলাদার বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউনুছ মাস্টারের ছেলে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মনিরুলের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কোনো বৈধ আকামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তাঁকে ভুয়া ভিসায় সৌদি পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে এবং আকামা-সংক্রান্ত চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে প্রায় দুই মাস পর মনিরুল নিজের খরচে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা কালক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় আত্মগোপন করে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। গত ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযুক্তদের ভাড়া বাসার সামনে পাওনা টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় টাকা না দিয়ে মনিরুলকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, মিজান সৌদি আরবে সাধারণ চাকরি করলেও দেশে এসে নিজেকে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং মাসে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয়ের কথা বলে বেকার যুবকদের বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। মিজানের প্রলোভনে পড়ে সৌদি যাওয়া অনেক প্রবাসী বর্তমানে আকামা ও কাজের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি কারও কারও পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় রেখে মরুভূমিতে ফেলে আসার ভয় দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. মিজান হাওলাদার দাবি করেছেন যে তিনি কাউকে বিদেশে পাঠাননি এবং কারও কাছ থেকে কোনো টাকাও নেননি। তাঁর মতে, এলাকার একটি পক্ষ সামাজিকভাবে তাঁকে হেয় ও ব্ল্যাকমেইল করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে মিজানের সম্পদ বৃদ্ধি পেলেও অভিযোগের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, পাওনা টাকা ফেরত এবং আটকে রাখা পাসপোর্ট উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশের বক্তব্য বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো কিছু নিশ্চিত করা যায়নি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream