শীতের এই সময়ে বাজারে শাকসবজির সরবরাহ প্রচুর থাকার কথা থাকলেও গাজীপুরের কাপাসিয়ায় দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কেনাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে কাপাসিয়া সদর বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু, পেঁয়াজ, লাউ, মুলা, শিম ও বেগুনের দাম আকাশচুম্বী। এছাড়া লাল শাক, পালং শাক ও পুঁইশাকের মতো সাধারণ শাকের দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। শীতকালীন সবজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সবজির আকাশচুম্বী দামের পেছনে উৎপাদন খরচ ও আবহাওয়াকে দায়ী করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক মাহাবুবুর রহমান বলেন:
“শীতের এই সময়ে ফলন ভালো হলেও সার, বীজ ও পরিবহণ খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া কুয়াশা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”
বাজারে বাজার করতে আসা নূরুল আমিন নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভেবেছিলাম শীতের সময় সবজির দাম কমবে, কিন্তু দুদিন আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য এখন মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সাধারণ সবজি কেনাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র উৎপাদন ঘাটতি নয়, বরং বাজার তদারকির অভাবে একটি সিন্ডিকেট চক্র দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বাজার কমিটি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষ অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার করে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন।

