শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা এফ এম

রাজনীতি

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান খান মনির

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান খান মনির

একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান মনির (৪৮) মারা গেছেন।বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন মিললেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল বা কারাগার থেকে বের হতে পারেননি।মিজানুর রহমান খান মনির পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালী মিলিয়ে মোট আটটি মামলা ছিল। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রায় ১১ মাস তাকে কারাগারে রাখা হয়। তার স্ত্রী সালমা জাহানও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাবন্দী ছিলেন।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।সালমা জাহান জানান, ৩০ জুলাই তার স্বামীর বিরুদ্ধে থাকা সর্বশেষ মামলায়ও জামিন মঞ্জুর হয়। এর আগে অন্য মামলাগুলোতেও তিনি জামিন পেয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, হাতকড়া পরা ছবি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে তা খুলে নেওয়া হলেও ততদিনে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ইবির ৪৪ শিক্ষকের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ গোপন কর্মকাণ্ডের তদন্তে কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিতে বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়।বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি 'এশিয়া পোস্ট' পত্রিকায় প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রতিবেদন সম্পর্কে তদন্তপূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো: ইসরাফুল হককে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ড. সাজ্জাত হোসেন প্রমূখ।এছাড়া কমিটির কার্যপরিধিতে 'এশিয়া পোস্ট' এ প্রকাশিত ইবির শিক্ষকগণ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও হুমকি প্রদানে লিপ্ত ছিলেন কিনা তা অনুসন্ধানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ‘আগামী রবিবার থেকে কাজ শুরু করবো। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যম এশিয়া পোস্টে "শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা" শিরোনামে প্রতিবদেন প্রকাশিত হয়। এতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম প্রকাশ করা হয়। জানা যায়, দেশব্যাপী গোপন তৎপরতা ও নৈরাজ্যে প্রধান ভূমিকা পালনের আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান।

ইবির ৪৪ শিক্ষকের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ গোপন কর্মকাণ্ডের তদন্তে কমিটি গঠন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের সময় দুপুর ১২ টা, রাস্তায় বের হয়ে দেখি আওয়ামী লীগের কর্মীরা লাঠি শোঠা হাতে নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে। এরপর চারিদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লো হাসিনা নাকি পদত্যাগ করবে। একটু পরেই দেখি আওয়ামীলীগের কর্মীরা রাস্তায় নাই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দৌড়িয়ে  টিভির সামনে গিয়ে দেখি টিভির স্কোলিং যাচ্ছে, দুপুর দুইটার সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবে। তখনই বুঝতে পারলাম যে, হাসিনার পতন হয়েছে। একটু পরেই দেখি টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছে গণভবনে লাখো মানুষের স্রোত, আর একটু পরে দেখা গেল হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাচ্ছে। এর পরেই সারাদেশে মানুষের মধ্যে একটা আনন্দ-উল্লাস, উদ্দীপনা, বাঁধভাঙ্গা আনন্দ। এ যেন অন্যরকম একটা বিজয়।  বিজয়ের যে একটা আনন্দ সে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে, নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা অলিতে, গলিতে,রাস্তায় মানুষের ঢল। সবাই তার বাঁধভাঙ্গা উল্লাস প্রকাশ করছে, সবাই মিছিল দিচ্ছে, শেখের বেটি পালিয়ে গেছে, শেখের বেটি পালিয়ে গেছে,  হৈ হৈ রই রই শেখ হাসিনা গেলি কই। ইন্টারনেট বন্ধ করে হাসিনা ছাত্রদের উপরে যে নির্যাতন হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল এরপরে যখন সে পালিয়ে গেল তখন আনন্দ উল্লাসের মুহূর্ত উপভোগ করতে গিয়ে চোখ দিয়ে অশ্রু বেরিয়ে গিয়েছিল। সেদিন এমন কোন মানুষ ছিল না যারা এই আনন্দটা উপভোগ করেনি, শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থক ছাড়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর এই স্বৈরাশাসকের বিদায় ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সারা জীবন মনে রাখবে বাংলার লাখো কোটি জনতা।  ইতিহাস হয়ে থাকবে ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থান। ছাত্র জনতার এই ৩৬  দিনের গণ আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালাতে বাধ্য হয়েছিল। তাই এই দিনটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে চীর স্মরণীয় হয়ে থাকবে ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান: পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা