বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা এফ এম

জাতীয়

শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত: রিজভী

শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান। তার দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি ভারতের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং পলাতক আসামি। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ তাকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করলেও ভারত এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরোক্ষ হস্তক্ষেপের শামিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে দিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সুযোগ করে দেওয়া ওই আন্দোলনে নিহতদের প্রতিও অসম্মানজনক।ড্যাবের কার্যক্রমের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, আগের সরকারের সময় নানা বাধা ও চাপের মধ্যেও সংগঠনটির চিকিৎসকরা জনসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ কারণে অনেক চিকিৎসককে চাকরিচ্যুতি, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং দূরবর্তী এলাকায় বদলির মতো হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, করোনা, ডেঙ্গু ও হামসহ বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ড্যাব বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল, তবে তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বিনামূল্যে সেবা চালু এবং হাম প্রতিরোধে প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।অনুষ্ঠানে ড্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. শাকিলসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জয়ের

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের’ লক্ষণ বহন করছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশটি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক জঙ্গিবাদের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।বুধবার (৪ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে দেওয়া বক্তব্যে জয় বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইসহ কয়েকটি বিদেশি সংস্থা বাংলাদেশে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তার অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়।জয় আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীর প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করছে এবং আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও জনসমক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন।রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সময় এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের অনুমোদিত দায়মুক্তি আইনের কারণে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী ও সাংবাদিক বিচার ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোরও যথাযথ তদন্ত ও বিচার হচ্ছে না।

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জয়ের

জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল: বস্ত্রমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং আমদানিনির্ভর গ্যাস ব্যবস্থার ফল। তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করা এবং নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জনগণের সহযোগিতা ও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বুধবার (৫ আগস্ট) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভা, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ১৪টি শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি জিল্লুর রহমান, এসএমপি কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক এবং সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন।

জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল: বস্ত্রমন্ত্রী