শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM

দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

 দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় আড়িয়াল বিলের কয়েকটি দেশি মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ প্রজাতির মাছের মধ্যে কই মাছে সবচেয়ে বেশি এবং পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে আড়িয়াল বিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার জন্য কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছ পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সর্বভুক খাদ্যাভ্যাসের কারণে কই মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। মাছটির পেশি, অন্ত্র ও ফুলকায় এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কই মাছের পর বাটা মাছে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এরপর মেনি ও গুলশা টেংরা মাছে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য গ্রহণের ধরন মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, আড়িয়াল বিলের প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১ দশমিক ৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২ দশমিক ৩৩ থেকে ১২৭ দশমিক ৩৩টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে এসব দূষণকারীর মাত্রা বেশি ছিল।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া কণার বড় একটি অংশ ছিল মাইক্রোফাইবার। গবেষকদের মতে, কাপড় ধোয়ার সময় বের হওয়া কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং প্লাস্টিকের মাছ ধরার জাল এসব দূষণের অন্যতম উৎস। পাশাপাশি পলিথিন, ভাঙা প্লাস্টিক ও ফোমজাতীয় উপাদানের কণাও পাওয়া গেছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড ও পলিকার্বোনেট ধরনের প্লাস্টিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্লাস্টিক দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তার মতে, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


দেশি মাছে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় আড়িয়াল বিলের কয়েকটি দেশি মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ প্রজাতির মাছের মধ্যে কই মাছে সবচেয়ে বেশি এবং পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে আড়িয়াল বিলের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার জন্য কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছ পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সর্বভুক খাদ্যাভ্যাসের কারণে কই মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। মাছটির পেশি, অন্ত্র ও ফুলকায় এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কই মাছের পর বাটা মাছে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এরপর মেনি ও গুলশা টেংরা মাছে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য গ্রহণের ধরন মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, আড়িয়াল বিলের প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১ দশমিক ৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২ দশমিক ৩৩ থেকে ১২৭ দশমিক ৩৩টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে এসব দূষণকারীর মাত্রা বেশি ছিল।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া কণার বড় একটি অংশ ছিল মাইক্রোফাইবার। গবেষকদের মতে, কাপড় ধোয়ার সময় বের হওয়া কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং প্লাস্টিকের মাছ ধরার জাল এসব দূষণের অন্যতম উৎস। পাশাপাশি পলিথিন, ভাঙা প্লাস্টিক ও ফোমজাতীয় উপাদানের কণাও পাওয়া গেছে।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিস্টাইরিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড ও পলিকার্বোনেট ধরনের প্লাস্টিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে প্লাস্টিক দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তার মতে, বর্তমানে এসব মাছ খাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
২৪/৭ লাইভ অডিও সম্প্রচার