বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা এফ এম

বিদেশি কর্মী নিয়োগে গতি আনতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দ্রুত নিষ্পত্তি হবে ১৫ হাজার আবেদন

মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিল্প ও সেবাখাতে শ্রমিক সংকট দূর করতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। এ লক্ষ্যে জমে থাকা প্রায় ১৫ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করা যায়।এর আগে গত ২৪ জুলাই আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, ভারতীয় মুসলিম রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মীর ঘাটতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ মালিকদের শ্রমিক সংকটের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই সুশৃঙ্খলভাবে এবং বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করেই সম্পন্ন করতে হবে।

সাকিব আল হাসানের বাড়িতে ভাঙচুর

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের শহরের বাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে মাগুরা শহরের কেশবমোড় এলাকায় সাকিবের পৈতৃক নিবাসে এই ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত পরিচয় কিছু ব্যক্তি সাকিবের বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করার পর বিকট শব্দে বস্তুটি বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।খবর পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা পুরো বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বাড়ির গেটে যে বস্তুটি নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেটি পেট্রোল বোমা কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে নিক্ষিপ্ত বস্তুর ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।পুলিশ আরও জানিয়েছে, কারা কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।এদিন দিল্লিতে অনুষ্ঠিট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন সাকিব আল হাসান।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অনেক সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেলেও সাকিবের বাড়িতে এই প্রথম এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: তফসিল প্রকাশ, ভোট হবে ২০ আগস্ট

নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে সংসদ সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে জমা দেওয়ার পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন না; কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যরাই ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। এ কারণে সংসদ সদস্যদের তালিকার ভিত্তিতেই ইসি ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করে।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

আগামী ২০ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ  দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  ঘোষিত সময়সূচি ও নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য:মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)  মনোনয়নপত্র বাছাই: ১৬ আগস্ট  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ১৮ আগস্ট  ভোটগ্রহণ: ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত)  আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার হবে:প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার হবে:প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে যে মানুষগুলো শহীদ হয়েছেন এবং গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের নামে নিজেদের এলাকায় যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে  ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরকেও জনগণ কখনোই ভুলবে না।’দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে এ পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কি না, সেটি ভেবে দেখার আহ্বান জানাই।দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের ভয়াবহতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধু স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে।’জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস তুলে ধরবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাদুঘর নতুন প্রজন্মের সামনে উম্মোচিত করবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ। এই স্মৃতি জাদুঘর আমাদের জনগণের সংগ্রাম,আত্মত্যাগ, বেদনা, সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের নৃশংস ঘটনার স্মারক হবে না, এই জাদুঘর বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পর্ক তুলে ধরবে। তিনি বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানই নয়, এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসও সংরক্ষিত থাকা জরুরি।বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র কখনোই দেশে গণতান্ত্রিক শাসনকে মেনে নিতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’তিনি বলেন,  অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না;  বরং  ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জাদুঘরে রাখা বিষয়াবলি সম্পর্কে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায়ও উপস্থাপিত হলে বিশ্বের ভিন্নভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে।’আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদেরকে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাদেরকে যথাযথ উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,  ‘বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সহায়তা করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার আন্তরিক।’রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহীদদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠারও কাজ শুরু করেছে।এরই অংশ হিসেবে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’তিনি বলেন,  একইসঙ্গে গণভোটের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ও কাজ শুরু করেছে। দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়বো, ইনশাআল্লাহ।’বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং শোকাহত শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং জুলাই যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তি আবেগঘন স্মৃতি চারণ করেন।সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯ ঘন্টা আগে

নেইমারকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণার দাবি, তোলপাড় ব্রাজিলে

ম্যাচ জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার। রেমোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণার দাবি উঠেছে। বেলেম সিটি কাউন্সিলের সদস্য মারিনর ব্রিতো অভিযোগ করেন, নেইমারের আচরণ শুধু প্রতিপক্ষ দলের নয়, পুরো পারা অঙ্গরাজ্য ও আমাজন অঞ্চলের মানুষের প্রতি অসম্মানজনক। তবে এ বিষয়ে তার উত্থাপিত প্রস্তাব ভোটে তোলা হয়নি।বিতর্কের সূত্রপাত বেলেমের মাঙ্গেইরাও স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে রেমোর কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন নেইমার। সাংবাদিক ব্রেনো রাইওলের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে গ্যালারি থেকে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করা হয়। এরপর মাঠ ছাড়ার সময় উদ্‌যাপন করতে করতে নেইমারও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। বারবার ‘এলিমিনেটেড’ (বিদায়) এবং ‘এটাই সান্তোস’ বলতে বলতে রেমোর কর্মকর্তাদের দিকে ইশারা করেন তিনি।এ সময় রেমোর কিছু সমর্থক প্রতিনিধি দুই দলের মাঝখানে থাকা নিরাপত্তাবেষ্টনী ফেলে দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সান্তোসের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর রেমোর সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা নেইমারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রেমো দারুণ একটি অভিযান উপহার দিয়েছে। কিন্তু সান্তোসের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল না। ওই বদমাশ নেইমার, যাকে অসংখ্য শিশু আদর্শ মানে, এখানে এসে ভাঁড়ামি করেছে, আবার উসকানিও দিয়েছে। এমন মানুষকে আদর্শ বানানো আমাদেরই ভুল।’রেমোর সভাপতির এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে সান্তোস। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানায়, নেইমারকে উদ্দেশ্য করে রেমো সভাপতির অপমানজনক মন্তব্য এবং রেফারিংয়ে পক্ষপাতের ইঙ্গিত তারা তীব্রভাবে নিন্দা করছে।সান্তোসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলাধুলা নিয়ে সমালোচনা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্মান এবং নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে। আমরা সব সময় আমাদের খেলোয়াড়, ক্লাবের ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করব। একই সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তিও সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পর থেকেই নেইমারকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। রেমোর বিপক্ষে এই ম্যাচের পর তাঁর আচরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।

কোন পোস্ট নেই !
নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
লিংক কপি করা হয়েছে!
কোন পোস্ট নেই !
কোন পোস্ট নেই !

বিএনপির সাংগঠনিক সভায় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক

ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া।সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হকসহ দলটির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতারাও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।তবে সভার আলোচনার বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।বিএনপির স্থানীয় একটি অংশ অভিযোগ করেছে, এর পেছনে আর্থিক লেনদেন থাকতে পারে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীকে নির্বাচন করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে আবদুর রহিম মিয়া বলেন, তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি বা দলে যোগদানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় সৌজন্যবশত ইউপি চেয়ারম্যান ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এতে দলীয় নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম হয়নি।স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশা ইউনিয়নের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোন পোস্ট নেই !
আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...
কোন পোস্ট নেই !
কোন পোস্ট নেই !
কোন পোস্ট নেই !
কোন পোস্ট নেই !