ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুদ্ধের চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক হামলাগুলো শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিই ঘটায়নি, বরং রাশিয়া এখন ক্রমেই বৃহৎ পরিসরের আকাশ হামলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ হামলায় রাশিয়া কয়েকশ ড্রোনের পাশাপাশি কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে আঘাত হানে। এতে আবাসিক ভবন, চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল এবং অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে “সন্ত্রাসী কৌশল” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া এখন ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় রাশিয়া এখন দূরপাল্লার হামলাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বড় আকারের ড্রোন ঝাঁক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মস্কো দাবি করছে, কিয়েভে সাম্প্রতিক হামলা ইউক্রেনের এসব আক্রমণেরই প্রতিক্রিয়া।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ এখন ক্রমেই “ড্রোন-নির্ভর সংঘাতে” পরিণত হচ্ছে। নজরদারি ড্রোন, আত্মঘাতী ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র—সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধের আগামী পর্যায়ে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি আকাশ হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্রই সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার চ্যালেঞ্জও আরও জটিল হয়ে উঠছে।

