যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের (Technical-level) আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য এখনো কূটনৈতিক সমাধান; কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি না হলে বা ইরান নতুন করে হামলা চালালে সামরিক বিকল্পও খোলা থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো হামলা চালায়নি। এর পরিবর্তে দুই পক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এসব আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের পর উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, কিন্তু যদি সেটি সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমরা হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো কাজটি শেষ করব।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।
এদিকে গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা ও ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, ড্রোন স্থাপনা এবং বিপ্লবী গার্ডের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সদ্য হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নেওয়া ঠেকাতে কাতার, ওমান, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিসরসহ একাধিক আঞ্চলিক দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেশের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতি থাকলেও তাদের প্রথম অগ্রাধিকার এখনো কূটনৈতিক সমাধান এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র “দ্বিমুখী কৌশল” অনুসরণ করছে। একদিকে আলোচনা চালিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন রেখে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ইরান যদি নতুন করে হামলা চালায় বা পারমাণবিক কর্মসূচিতে আগায়, তাহলে দ্রুত ও শক্তিশালী সামরিক জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।

