মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েকদিনের তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এই শান্তিকে ‘ভঙ্গুর’ ও ‘অস্বস্তিকর’ বলেই মনে করছেন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। কারণ, উভয় পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো উসকানিতে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। এসব হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নতুন হামলার খবর না থাকায় আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। কাতার, ওমান, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তরসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। সামরিক প্রস্তুতি বজায় থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যুক্তরাষ্ট্র ধরে রেখেছে।
এদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখবে এবং নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। দেশটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, বাহ্যিক চাপের মুখে তারা নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে কিছু জাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন করলেও এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবুও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে শিপিং কোম্পানি ও তেলবাজারে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যে শান্ত পরিবেশ দেখা যাচ্ছে তা অত্যন্ত নাজুক। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল না হলে কিংবা নতুন কোনো সামরিক উসকানি দেখা দিলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

