শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার চিহ্নিত ভিসা প্রতারক ফরিদুল ইসলামকে (৩২) গ্রেপ্তারের সময় ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাপ সহ আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে ৫ জন মহিলাও রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা এসপি অফিস থেকে আদালতে নেওয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক ২ জন মহিলার জামিন মঞ্জুর করেন এবং আরও ৩ জন মহিলাসহ ১২ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়াও ২ জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে নীলফামারী জেলা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের হাজারিহাট কালিবাড়ি শাহপাড়া থেকে এই ১৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে শাহপাড়ার ১৩ জন ও হাজারিহাট সুতারপাড়ার ১ জন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শাহাপাড়ার আবেদ আলীর ছেলে জিয়ারুল ও তার স্ত্রী দুলালী, সাহান উদ্দিনের ছেলে সোহাগ এবং তার স্ত্রী রাশেদা ও ছেলে সিফাত, জাবেদের ২ ছেলে সাব্বির ও শাহীন, কপিলের ২ ছেলে হাকিম ও হালিম, নুর ইসলামের স্ত্রী সুলতানা, আজিজুলের স্ত্রী কুলসুম এবং এন্তাকুল ও তার স্ত্রী ফেলকি। আর হাজারিহাট সুতারপাড়ার মুকুল।
তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের উপর হামলা, মারধর, মোটর সাইকেল ভাংচুর ও হ্যান্ডকাপসহ আসামি ছিনতাইয়ের অভিযোগে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা গত ৫ জুলাই রাত ১০ টায় ভিসা প্রতারণা মামলার আসামি ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার সময় উল্লিখিত অপরাধ সংঘটিত করে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহপাড়ার ভ্যানচালক রশিদুল ইসলামের বড় ছেলে ফরিদুল ইসলাম সৈয়দপুর থানার মামলা নং ২৮, তারিখ ২৫-০২-২০২৬ ইং এর এজাহার নামীয় ৬ নং আসামি। এর আগেও ডিবি পুলিশ তাকে ধরতে গেলে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার ছোট ভাই সহ ২ জনকে আটক করা হয়।
গত ৫ জুলাই গোপন সংবাদে নিশ্চিত হয়ে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। কিন্তু পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেয়। এরই জেরে আবারও অভিযানে চালানো হয় এবং ১৪ জনকে আটক করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি আটকদের মধ্যে বেশির ভাগই নিরপরাধ আর প্রকৃত দুষ্কৃতকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই তারা উল্লেখিত ঘটনায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পক্ষান্তরে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হোন সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনার পর থেকে সারাদিন সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, নীলফামারী জেলা ডিবির অফিসার ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে কোন তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে লুকোচুরি করেছেন। বার বার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি। এমনকি জেলা পুলিশ সুপার কল রিসিভ করলেও মূল তথ্য না দিয়ে উপরোক্তদের সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন।

