উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কুয়েত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এসব হামলাকে “জঘন্য ইরানি আগ্রাসন” এবং দেশের সার্বভৌমত্বের “স্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে আখ্যায়িত করেছে।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান ধারাবাহিকভাবে কুয়েতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। সরকার জানিয়েছে, দেশটির ভূখণ্ড ও আকাশসীমায় চালানো হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে কুয়েত জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
ইরানের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোই ছিল তাদের হামলার লক্ষ্য। বিশেষ করে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। তেহরান বলছে, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। হামলার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
এই ঘটনার পর বাহরাইনও ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC)-এর কয়েকটি দেশ কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এরপরই ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের কঠোর ভাষায় নিন্দা শুধু কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগেরও প্রতিফলন। যদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

