মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে পর্দার আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত ও খামখেয়ালি নীতির কারণে আস্থা হারিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সরাসরি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সমঝোতার পথ খুঁজছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলো অনেক সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে সংঘাতের পরিবেশে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হয়েছে।
এই বাস্তবতায় উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, ইরানের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে পারলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে এবং যুদ্ধের ঝুঁকিও কমবে।
এ ছাড়া, তারা আশঙ্কা করছে যে সম্ভাব্য কোনো বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে তাদের তেলক্ষেত্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনীতি। তাই গোপনে উপসাগরীয় দেশ গুলো ইরানের সঙ্গে একটি ‘নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট’ (পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি) নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
যেসব দেশ এতদিন ওয়াশিংটনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, তারাই এখন পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতায় তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজছে।
তবে উল্লেখ্য, এসব তথ্য মূলত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়নি বা চুড়ান্ত হলেও তা দেশ গুলো কৌশলগত কারণে গোপন রাখতে পারে।

