দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে রোমান্টিক রূপ ও ‘মিষ্টি মেয়ে’ ইমেজ দিয়ে ঢালিউড ভক্তদের হৃদয় জয় করে এসেছেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। তবে এবার ক্যারিয়ারের চেনা ছক সম্পূর্ণ বদলে ফেলতে চান তিনি। পর্দায় কোমল রূপের বিপরীতে প্রথমবারের মতো এক মারমুখী ও শক্তিশালী ‘খলনায়িকা’ বা ভিলেন চরিত্রে অভিনয়ের তীব্র আকাক্সক্ষার কথা জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক ঘটেছিল পূর্ণিমার। এরপর দীর্ঘ ২৮ বছরের সফল অভিনয়জীবনে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তবে এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাকে কখনোই কোনো নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি নিজের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে অভিনয়জীবনের এই অধরা ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আনেন পূর্ণিমা।
দর্শকদের চমকে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন: “আমার খুব ইচ্ছা খলনায়িকা বা ভিলেন টাইপ চরিত্রে অভিনয় করার। পর্দায় এমন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যার ক্রূরতা দেখে মানুষের মনে তীব্র ঘৃণার সঞ্চার হবে।” ‘আমাকে নিয়ে কেউ এমনটা ভাবেনি’
কেন এতদিন তাকে নেতিবাচক ভূমিকায় দেখা যায়নি—তার কারণ ব্যাখ্যা করে পূর্ণিমা জানান, নির্মাতারা তাকে নিয়ে কখনো এমন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাননি।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত খলচরিত্রে আমার অভিনয় করা হয়নি। আসলে আমাকে নিয়ে হয়তো কেউ তেমনটা চিন্তাই করতে পারেননি। সবার ধারণা, আমার চেহারা বা ‘সফট লুকে’র সঙ্গে নেতিবাচক চরিত্র ঠিক মিলবে না। দর্শকরাও আমাকে রোমান্টিক ও পরিপাটি লুকে দেখতেই ভালোবাসেন। তবে এবার এই চেনা বৃত্তের বাইরে গিয়ে চরম নেতিবাচক কিছু করতে পারলে দারুণ হতো।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয়ে বেশ অনিয়মিত পূর্ণিমা। ২০২৪ সালের রোজার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ সিনেমায় তাকে শেষবার রূপালী পর্দায় দেখা গিয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালে কাজল আরেফিন অমির ব্যাপক জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘হোটেল রিলাক্স’-এর মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর অভিষেক ঘটে। এবার দেখা যাক, পূর্ণিমার এই ইচ্ছা পূরণ করে কোন সাহসী নির্মাতা তাকে পর্দায় দুর্ধর্ষ ভিলেন হিসেবে হাজির করেন।

