লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ার যেন সাফল্য আর অবিশ্বাস্য অর্জনের এক দীর্ঘ গল্প। অসংখ্য ট্রফি, ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং স্মরণীয় মুহূর্তের পর এবার তার সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। তাই ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটাই প্রশ্ন—স্পেনের বিপক্ষে আজও কি নতুন ইতিহাস লিখবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক?
ফাইনালের আগে ফিফার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যানাটিকস ফেস্ট’-এ সংবাদ সম্মেলনে মেসির মুখোমুখি হন টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচ। ইংরেজিতে করা প্রশ্নটি প্রথমে পুরোপুরি বুঝতে না পেরে হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান মেসি। পরে সতীর্থ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ প্রশ্নটি স্প্যানিশে বুঝিয়ে দিলে তিনি উত্তর দেন।
জোকোভিচ জানতে চান, এত বড় মঞ্চের চাপ কীভাবে সামলান এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা কোথা থেকে পান।
মেসি বলেন, জীবনের শুরু থেকেই তিনি শিখেছেন যে জয় সব সময় আসে না; বরং পরাজয় থেকেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষা পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি। স্কুল, পাড়া কিংবা ক্লাব—যেখানেই খেলেছেন, সবসময় আনন্দ নিয়ে খেলতে এবং নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা করেছেন।
দলের মানসিকতা নিয়েও কথা বলেন মেসি। তার মতে, আর্জেন্টিনা চাপকে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে গুরুত্ব দেয়। প্রতিটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে দল, তবে ফুটবলে প্রতিপক্ষও সমানভাবে জিততে চায়—এ বাস্তবতাও তারা মেনে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে একজন সাংবাদিক মেসির ক্যারিয়ারকে ভিডিও গেমের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি যেন একের পর এক নতুন ‘লেভেল’ পার করছেন। জবাবে হাসতে হাসতে মেসি বলেন, “আমার তো মনে হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপেই সব শেষ হয়ে গেছে!”
এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামছেন মেসি। কোটি সমর্থকের অপেক্ষা—আরেকটি শিরোপা জিতে কি তিনি নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করবেন, নাকি ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হবে নতুন এক রূপকথা।

