ফুটবল বিশ্বকাপের সেই মহা-আকাঙ্ক্ষিত মেগা ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায়। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের স্কোরলাইন ০-০ হলেও, মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও খেলার গতি ছিল মূলত স্প্যানিশদের দখলে। বলের দখল, হাই প্রেসিং আর একের পর এক ধারালো আক্রমণে লিওনেল মেসিদের রক্ষণভাগকে পুরোটা সময় ব্যস্ত রেখেছিল ‘লা রোজা’রা। অন্যদিকে, লিড নেওয়ার জন্য আর্জেন্টিনা মূলত অপেক্ষা করেছে সুতীক্ষ্ণ পাল্টা আক্রমণের (কাউন্টার অ্যাটাক) সুযোগের।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের স্বভাবসুলভ ছোট ছোট পাসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রথম মিনিটেই আর্জেন্টিনা হাই প্রেস করে স্প্যানিশ ডিফেন্সকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্রুতই নিজেদের চেনা ছন্দ ফিরে পায় স্পেন।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে তারা। দারুণ এক ওয়ান-টু পাসের সাহায্যে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। তবে তাঁর নেওয়া তীক্ষ্ণ কোণের শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
আর্জেন্টিনাও পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে। ডিফেন্স চিরে লিওনেল মেসির উদ্দেশে এক দুর্দান্ত পাস বাড়িয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার, তবে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন লাইনের সামনে দ্রুত বেরিয়ে এসে বলটি ক্লিয়ার করেন।
এরপর দীর্ঘ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য করে স্পেন। ম্যাচের ১২তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের একক চেষ্টায় কর্নার আদায় করে নেয় তারা। সেই কর্নার থেকে দানি ওলমো ভালো পজিশনে সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত শট নিতে ব্যর্থ হন।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে মাঝমাঠে ফাউলের শিকার হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফ্রি-কিক থেকে আর্জেন্টিনা বল স্পেনের বক্সে ভাসিয়ে দিলেও স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা তা সহজেই সামাল দেন।
পরের মিনিটেই (১৭ মিনিটে) ডান প্রান্ত থেকে ইয়ামালের একটি বিপজ্জনক বাঁকানো ক্রস সরাসরি গ্লাভসে নেন মার্তিনেস। এর দুই মিনিট পর স্প্যানিশ উইঙ্গার ইয়ামাল আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের শক্ত ট্যাকলের শিকার হন। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কুকুরেয়ার একটি ক্রস ব্লক হলে কর্নার পায় স্পেন, তবে তা থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
ম্যাচের ২৯ ও ৩১ মিনিটেও ইয়ামালকে ফাউল করে বসে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। ৩১ মিনিটে সেই ফ্রি-কিক থেকে স্পেনের তৈরি করা বিপজ্জনক আক্রমণটি আবারও নসাৎ করে দেন মার্তিনেস।
শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের বাকিটা সময় স্পেনের একের পর এক আক্রমণ আর আর্জেন্টিনার জমাট রক্ষণভাগের লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয়। ফলে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতা নিয়েই বিরতিতে গেছে দুই দল।

