তানভীর তুহিন, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই ১৭ বছর বয়সী আয়েশা আফরিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নিহত আয়েশা আফরিন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরপরই আয়েশার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হলে রাত ৩টার দিকে তাকে শহরের টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আলেয়া বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অপারেশন করাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণেই তাকে হারাতে হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আতিকুল আহসান করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ অভিযোগের দায় হাসপাতালের নয়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে হাসপাতালেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে নিহতের স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

