বর্ষার পর বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যভাগ থেকে পৃথিবী দেড় শ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র এল নিনো চক্রের মুখোমুখি হতে পারে। সেই হিসাবে আমাদের এখানে আগস্ট থেকে শুরু হতে পারে।
গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য, এটি নিছক আবহাওয়ার খামখেয়ালি নয়, এটি একটি অস্তিত্বগত চ্যালেঞ্জ। আমাদের ভূগোল, আমাদের দারিদ্র্য এবং আমাদের শক্তি-ব্যবস্থার দুর্বলতা মিলে এক বিপজ্জনক সংযোগ তৈরি হচ্ছে, যার জন্য আমরা এখনো প্রস্তুত নই।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণায়ন। মৌসুমি বায়ু দুর্বল হওয়ায় বৃষ্টি কমবে, কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উপকূলে লবণাক্ততার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মডেল বলছে, এল নিনোর বছরে আমন ধানের ফলন ৮-১২ শতাংশ কমে যায়। ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশে ২ দশমিক ৪ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছিল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি পার হলে শ্রমিকের কাজের ক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমে যায়, ফলে ২০২৬ সালে শুধু পোশাক ও নির্মাণ খাতে জিডিপি ক্ষতি হতে পারে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
আমাদের জাতীয় গ্রিড এখনই জ্বালানিসংকটে কম্পমান। গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৩০-৪০ শতাংশ কেবল শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ফ্যানে ব্যয় হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সুপার এল নিনোতে ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোড পড়বে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা বলছে, ৪০ ডিগ্রির ওপরে প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়লে হিটস্ট্রোক ১২ শতাংশ এবং ডায়রিয়া রোগী ৫ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ে। ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৪-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যু ইতিমধ্যে ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। ৪৫ ডিগ্রির তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ না থাকলে দেশের ৫০ লাখ টিনের বাড়ি পরিণত হবে চুলায়।

