দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ সন্ধ্যার মধ্যে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে দেশের ১৯টি অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
যেসব অঞ্চল এ সতর্কতার আওতায় রয়েছে সেগুলো হলো—রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কমেছে।
তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সেখানে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ফেনী জেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চারটি নদীর ছয়টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট, মৌলভীবাজারে মনু নদ এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্ট।
এ ছাড়া দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৪টিতে কমেছে এবং ৬টিতে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী, মুহুরী ও মাতামুহুরী নদীর কয়েকটি স্থানে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব নদীর পানি আরও বাড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতির বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

