আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর আবহাওয়া অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের তুলনায় এ অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় এলাকায় জারি থাকা সতর্কতা সংকেতও শিগগিরই তুলে নেওয়া হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে আমবাগানে। এছাড়া যশোরে ৮৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ৭৭ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহীতে ৬২ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ৬১ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৫৫ মিলিমিটার, ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার, আরিচায় ৪২ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ৩৭ মিলিমিটার, ভোলায় ৩৪ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের কারণে কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও পাঁচটি জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রটির তথ্যমতে, গত এক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মুহুরী, ফেনী ও সেলোনিয়া নদীর পানি কিছুটা কমলেও গোমতী নদীর পানি বেড়েছে।
আগামী দুই দিনের মধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নতুন করে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা বা স্থানীয় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

