ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। আজ ১১ জুলাই তাঁর বিশেষ জন্মদিনে ভক্ত, অনুরাগী ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পক্ষ থেকে ভাসছেন শুভেচ্ছা বন্যায়। দীর্ঘ ২৮ বছরের বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবনে তিনি কেবল বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয়তার শীর্ষেই পৌঁছাননি, বরং সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং উপস্থাপনা দিয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় তাঁর প্রায় তিন দশকের সেই সফল পথচলার মূল মাইলফলকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

মাত্র ১৫ বছর বয়সের কিশোরী বয়সে ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার। প্রথম সিনেমাতেই তিনি নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন সে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা রিয়াজকে। প্রথম ছবির সেই সাফল্যই তাঁর সামনে ঢালিউডের এক বিশাল পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
অভিনয়জীবনে পূর্ণিমা প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তবে ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারত–বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা ‘মনের মাঝে তুমি’ তাঁকে তারকাখ্যাতির একচ্ছত্র শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

ঢালিউডের ইতিহাসে অন্যতম সফল রোমান্টিক জুটি হিসেবে ধরা হয় রিয়াজ ও পূর্ণিমাকে। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫টি সিনেমায় তিনি রিয়াজের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও তিনি মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, কাজী মারুফ এবং আরিফিন শুভসহ দেশের প্রায় সব প্রজন্মের শীর্ষ নায়কদের সাথে জুটি বেঁধে উপহার দিয়েছেন একের পর এক সফল ছবি।
শুধুমাত্র নাচ-গান-অ্যাকশনের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমাতেই নয়, সাহিত্যনির্ভর ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও পূর্ণিমা নিজের জাত চিনিয়েছেন এবং সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে: ‘সুভা’ ও ‘শাস্তি’।
রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে: ‘মেঘের পরে মেঘ’।

প্রখ্যাত পরিচালক কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অনবদ্য ও শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য পূর্ণিমা তাঁর ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি হিসেবে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ লাভ করেন।
বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায় নাটক এবং রিয়্যালিটি শোর জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবেও পূর্ণিমা দারুণ সফল। অভিনেতা ও পরিচালক জাহিদ হাসান পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’-তে অভিনয় করে তিনি ছোট পর্দার দর্শকদের মাঝেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেন। মিষ্টি হাসি, চমৎকার বাচনভঙ্গি আর সাবলীল উপস্থাপনার কারণে যেকোনো বড় আয়োজনের উপস্থাপক হিসেবে পূর্ণিমা আজ এক নির্ভরযোগ্য নাম।

