দিলীপময় দাশ চৌধুরী:
পদোন্নতি আর পদের গ্রেড এক বিষয় নয়। এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেললেই অধিকাংশ ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
যেখানে অনেকের কাছে পদোন্নতি এখনো আলোর মতো অধরা,সেখানে অবসরের আগের দিন পদোন্নতি এলেও সেটিকে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। কারণ পদোন্নতি দেরিতে আসতে পারে,কিন্তু সেটি কখনোই অযোগ্যতার পরিচয় নয়। একটি প্রতিষ্ঠান যখন কাউকে পদোন্নতি দেয়,তখন অন্তত এটুকু স্বীকার করে যে,তিনি নতুন দায়িত্ব পালনের যোগ্য।
অন্যদিকে,কোনো পদের মূল গ্রেড কোনো ব্যক্তির যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। রাষ্ট্র তার নিজস্ব প্রয়োজন,প্রশাসনিক কাঠামো,কাজের ধরন এবং দায়িত্বের পরিমাণ বিবেচনা করে একটি পদের গ্রেড নির্ধারণ করে। একটি পদ রাষ্ট্রের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই পদ থেকে কী ধরনের দায়িত্ব প্রত্যাশা করা হয়,তার ওপরই মূলত গ্রেড নির্ভর করে।
রাষ্ট্র বেতন নির্ধারণ করে পদের জন্য,ব্যক্তির আত্মমর্যাদার জন্য নয়।
এখানে একটি বিষয় সহজভাবে বোঝা প্রয়োজন। কেউ যদি মনে করেন,”আমার গ্রেড কম,তাই রাষ্ট্র আমাকে কম যোগ্য মনে করে”, তাহলে তা অনেকটা থার্মোমিটার দেখে নিজের জ্বরের ওপর রাগ করার মতো। থার্মোমিটার শুধু তাপমাত্রা প্রকাশ করে,তাপমাত্রা সৃষ্টি করে না। একইভাবে গ্রেডও একজন মানুষের যোগ্যতা নির্ধারণ করে না,বরং একটি পদের প্রশাসনিক অবস্থান নির্দেশ করে।
তাই পদোন্নতির সময় নিয়ে আক্ষেপ থাকতে পারে,গ্রেড নিয়ে মতভেদও থাকতে পারে। কিন্তু এই দুটি বিষয়কে নিজের যোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা বিচক্ষণতার পরিচয় নয়।
প্রশাসন আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় না,বরং নির্দিষ্ট কাঠামো ও নিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার কর্ম,সততা,দায়িত্ববোধ ও অবদানের মাধ্যমে।
পদ পরিবর্তিত হয়,গ্রেড পরিবর্তিত হয়। কিন্তু একজন মানুষের কাজের মূল্য ও কর্মের স্বীকৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
পদোন্নতি হলো যোগ্যতার স্বীকৃতি,আর গ্রেড হলো রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার ও প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিফলন। এই দুই বিষয়কে আলাদা করে বুঝতে পারলেই অনেক ভুল ধারণার অবসান ঘটবে।
প্রেরক: সত্যজিৎ দাস,মৌলভীবাজার।

