এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুরে চলতি মওসুমে ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে ইরি-বোরো ধানের জমিতে সময় ও চাহিদা মাফিক পানি দিতে পারছেনা কৃষকরা। এ কারণে প্রত্যাশা মাফিক ফলন না হওয়ার আশংকা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে জেলায় সেচ পাম্প রয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৮টি। এর মধ্যে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প ২৮ হাজার ১০৩টি। চলতি মওসুমে জামালপুর জেলায় ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ২ লাখ হেক্টর। এর মধ্যে ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে চাষ হয়েছে ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমি। ডিজেল সংকটের কারণে ঝুকিঁর মুখে পড়েছে ইরি-বোরো ফসল।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া বাজারের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনের পর থেকে ১/২ দিন পর পর জমিতে চাহিদা মাফিক পানি দিতে হয়। ডিজেল সংকটের কারণে এবার সময় মত পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। পাম্পে দিন রাত অবস্থান করেও চাহিদা মাফিক ডিজেল পাচ্ছিনা। এ কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় ধানের ফলন কম হবে।
ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, ডিজেলের অভাবে মেশিন চালু করতে পারছিনা। ডিজেল সোনার হরিনে পরিনত হয়েছে। লম্বা লাইনে রোধে শুকিয়ে ১০/১২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরেও তেল মিলছেনা। তেলের অভাবে ১৫ দিনেও এক দিন পানি দিতে পারছিনা জমিতে। এ অবস্থার উন্নতি না হলে ধানের ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শরীফ আলম খান বলেন, সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদনে যথেষ্ট পরিমান প্রভাব পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি পরিবার।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ¦ালানি তদারকি কমিটির আহবায়ক আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ডিজেলের কোন সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

