ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্ণা থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরা এবং সমাজবাদী পার্টির (SP) সভাপতি ও সংসদ সদস্য অখিলেশ যাদবকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বিক্ষোভ শুরুর পর সন্ধ্যার দিকে তাঁদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ তাঁদের আটক করে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলে। তাঁদের সঙ্গে কংগ্রেস ও বিরোধী জোটের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা-কর্মীকেও আটক করে নিকটস্থ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পদযাত্রায় পুলিশি হামলা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আজ বিকেলে আচমকাই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থানে বসে পড়েন বিরোধী নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভিআইপি এলাকায় প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের এই সরাসরি অবস্থান কর্মসূচিতে গোটা ভারতের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ জোরপূর্বক তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতাদের চাড়াও করে প্রিজন ভ্যানে তোলে।
আটক হওয়ার ঠিক আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেয়া এক তীব্র বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন:
“গতকাল তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যে নৃশংসতা ও বলপ্রয়োগ করেছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত গিয়েছি। কিন্তু সরকার কোনো দায় নিতে চায় না, কিংবা সংসদে এ নিয়ে কোনো গঠনমূলক বিতর্কেও জড়াতে রাজি নয়। ভারতের কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ এভাবে ধ্বংস করার অপরাধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।”
সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে দিল্লির রাজপথে নামা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের পর থেকেই রাজধানী উত্তপ্ত রয়েছে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের মতো শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভের দাবানল এখন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই দিল্লির বিভিন্ন স্থানে কংগ্রেস ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছেন।

