এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরের ৭টি উপজেলায় চিকিৎসা সংক্রান্ত ১৮৫টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আছে। আইন অমান্য করে লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠান চলমান আছে ১২৬টি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি উপরজলায় বেসরকারিভাবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৫৮টি। লাইসেন্স আছে ২৪টির। ৩৪টি বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার আছে ১২৭টি। এর মধ্যে ১১টির লাইসেন্স বাতিল হয়েছে। ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আছে। লাইসেন্স ছাড়াই চলমান আছে ১১৬টি প্রতিষ্ঠান।
লাইসেন্স বাতিলের তালিকায় আছে-জামালপুর সদর উপজেলার নিউসিটি হাসপাতাল, শফিক হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার, এশিয়ান জেনারেল হাসপাতাল(প্রা:), ইউনাইটেড জেনারেল হাসপাতাল, ইসলামপুর উপজেলার তুষার ডায়গনস্টিক সেন্টার, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ আধুনিক হসপিটাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার, বকশীগঞ্জ উপজেলার মর্ডাণ ডায়গনস্টিক সেন্টার, ডা. এফ রহমান হাসপাতাল, নিউ পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার, মাদারগঞ্জ উপজেলার স্বপন ডায়গনস্টিক সেন্টার ও সরিষাবাড়ী উপজেলার হামিম মেডিকেল সেন্টার। লাইসেন্স বাতিল হলেও প্রতিষ্ঠান গুলোর কার্যক্রম চালু আছে।
আইনে বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা দন্ডনীয় অপরাধ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। ফায়ার সার্ভিস সার্টিফিকেট এবং মাদকদ্রব্য ( অপারেশন সুবিধা থাকলে) অধিদপ্তরের লাইসেন্স জমা দিতে হবে।
চিকিৎসার শর্তাবলির মধ্যে আইনে উল্লেখ আছে, বেসরকারি হাসপাতালে সুবিধাজনক স্থানে চিকিৎসা ও সেবার ফি এর তালিকা প্রদর্শণ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কোনো ডাক্তার বা স্টাফ অফিস চলকালিন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেনা। বেসরকারি হাসপাতালে রোগিদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট, ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার, নার্স ও চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট পোষাক ও আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখতে হবে।
দেওয়ানগঞ্জ আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মঞ্জুরুল হক বলেন, ২০১৮ সালে আমাদের হাসপাতালের লাইসেন্স করা ছিলো। দুই অর্থ বছরে লাইসেন্স ফি জমা দিয়েছি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়ায় লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ছাড়পত্র পেলে নবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
জামালপুর ডায়েবেটিস জেনারেল হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক জটিলতর কারণে লাইসেন্স নবায়ন সম্ভব হচ্ছেনা। তবে কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে।
ইসলামপুর উপজেলার স্টেশন রোডের বাসিন্দা আলমাস হোসেন কামাল বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত লাইসেন্স বিহীন বা সরকার অনুমোদন বিহীন প্রতিষ্ঠান গুলোতে কোন প্রকার প্রশাসনিক তদারকি নেই। এ কারনে প্রতিষ্ঠান মালিকরা লাগামহীন অনিয়ম করে যাচ্ছে। লাইসেন্স না থাকায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। একই কারনে যত্রতত্র নি¤œ মানের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। প্রতারনার শিকার হচ্ছে রোগী ও তার পরিবার।
মেলান্দহ পৌরসভার ব্যবসায়ী মোস্তফা জামান বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার পূর্বেই সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠার পূর্বে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হলে সরকার প্রদত্ত ডিজাইন অনুযায়ি প্রতিষ্ঠান হবে। তখন মানসম্মত সেবা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত থাকবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, বেসরকারী হাসপাতাল বা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে সরকারি হাসপাতাল থেকে নির্দিষ্ট দুরত্ব বজায় রাখতে হয়। কিন্তু সেই আইন অমান্য করে যত্রতত্র নি¤œমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এর যথাযথ প্রতিকার দরকার।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক জানান, লাইসেন্স বিহীন প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

