রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ ও স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)-র শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ এটিকে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি ‘সুসংবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাচ্ছেন—এমন খবরের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অন্যতম অংশীদার মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছিল এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক বিপ্লবী ও রাজপথের সংগঠন।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি উল্লেখ করেন: “রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের থাকা না থাকা নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে। এনসিপি প্রথম থেকেই এই পদে তাঁর থাকার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। অবশেষে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন—এটি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশারই প্রতিফলন এবং নিঃসন্দেহে একটি সুসংবাদ।”
রাজনৈতিক অবস্থান: তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি তাঁকে বহাল রাখার পক্ষে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দেরিতে হলেও সে অবস্থানের পরিবর্তনকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন এনসিপি নেতৃত্ব।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ বা পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ জানান, ফ্যাসিবাদের অবশেষ মুক্ত এবং সর্বজনগ্রাহ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করতে হবে, যাতে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত ফোনালাপের খবরের জের ধরে শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠাতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

