যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড় প্রত্যাহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। এটি গত ২৩ জুনের পর সর্বোচ্চ মূল্য। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে যেকোনো সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে।
জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টোকিও ও সিউলের প্রধান সূচক নিম্নমুখী হলেও তাইপে ও হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও সৌদি আরব সম্প্রতি তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালায় এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর আগে দেওয়া ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা-ছাড় বাতিলের ঘোষণা দেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান সরাসরি হামলার দায় স্বীকার না করলেও দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে দুই দেশের পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর মনে করেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে এমএসটি ফাইন্যান্সিয়ালের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে এবং কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহারের সুযোগ কমে এলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছু সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। তার মতে, ইরান যদি ওই অঞ্চলে চাপ আরও বাড়ায়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

