আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো জোটের সঙ্গে না গিয়ে দলীয় প্রতীকে এককভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।
দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রস্তুতির পাশাপাশি সংগঠন সম্প্রসারণের কাজও সমানতালে চলছে। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন কমিটি গঠন এবং বিদ্যমান কমিটিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সারজিস আলম বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেমে নেই। বরং আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে। যেসব এলাকায় সাংগঠনিক উপস্থিতি দুর্বল, সেখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হচ্ছে এবং পুরোনো কমিটিগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে দলীয় সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়বে। ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে জোটবদ্ধভাবে না গেলে ভোট বিভাজনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তবে নির্বাচনের সময়সূচি ও পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট না হওয়ায় সম্ভাব্য জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।
তিনি জানান, দল সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এনসিপি সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি দলে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও দলের ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তার ভাষ্য, এমন কাউকে দলে নেওয়া হবে না যার কারণে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে দলের সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দল গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য ও জনআস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

