নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানিও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৭৮০ জন। একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার বড় একটি অংশই শিশু।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া, রোগ শনাক্তে দেরি এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিশুদের টিকাদানের হার কম, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে দাগ ওঠা এর প্রধান উপসর্গ। রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই টিকা না নেওয়া বা নির্ধারিত দুই ডোজ টিকা সম্পূর্ণ না পাওয়া শিশু। তাই অভিভাবকদের দ্রুত শিশুদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার দুই ডোজ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসা নিলে হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

