স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের মরদেহে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী শিল্পী।
অভিনয়শিল্পী সংঘ ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে তার শেষ বিদায়ের কর্মসূচি: জোহরের নামাজের পর মগবাজারের ইস্পাহানি সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবনের সামনের খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে রাখা হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
গত শুক্রবার নিজ বাসায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। এরপর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এবং সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত আতাউর রহমান একাধারে অভিনেতা, নির্দেশক, নাট্যকার ও লেখক ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে নির্দেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’ ও ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন।
তিনি ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) বাংলাদেশ শাখা ও বিশ্ব শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০১ সালে তিনি একুশে পদক এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। এছাড়া মুনীর চৌধুরী সম্মাননাসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

