পবিপ্রবি প্রতিনিধি :
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে চলমান আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচির মধ্যে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সোমবার (১১ মে) সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে হামলার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, অধ্যাপক নিজামুদ্দিন, অধ্যাপক আবদুল মালেক, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এসময় হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়, চাঁদাবাজির দায়ে বহিষ্কৃত দুমকি উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব রিপন শরীফ কে। তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই হামলা চালায়।
শিক্ষকদের দাবি, হামলায় ডিন, অধ্যাপক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পরে বিকেল সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা চলছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।
এদিকে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, “এই মব সৃষ্টিকারীরা আওয়ামী লীগের দালাল। ভিসি তাদের অন্যায়ে সমর্থন না করায় বিভিন্নভাবে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমান উপাচার্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপাচার্যের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগও তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাসার, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, কৃষিবিদ ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, টিএসসি পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ অন্যরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

