জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইকে মাথায় ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যার মামলায় বড় ভাই অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অশোক কুমার দাস জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছেলে।
মামলার বিবরণ মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার দমদমা গ্রামের ফনিন্দ্রনাথ দাসের ছোট ছেলে সিদ্ধেশ্বর দাস পেশায় লোহার কর্মকার ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে কামারের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি-জমা নিয়ে বড় ভাই অশোক কুমার দাসের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর দুপুরে সিদ্ধেশ্বর তার কামারশালায় কাজ শেষে দোকানের সামনের একটি বেঞ্চে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় তার বড় ভাই অশোক কুমার দাস সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অশোক কামারশালায় থাকা একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে সিদ্ধেশ্বরের মাথায় সজোরে আঘাত করেন।
হাতুড়ির আঘাতে সিদ্ধেশ্বর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে অশোককে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত সিদ্ধেশ্বরকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১০ সালের ২৯ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সিদ্ধেশ্বরের স্ত্রী কামনা রানী বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় অশোক কুমার দাসের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন আদালতে বিচারাধীন থাকার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রোববার আদালত অশোক কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

