নেত্রকোণা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে সরকার ঘোষিত উন্মুক্ত জলাশয় নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও খাল দখল করে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ওয়ালিদ মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,খালিয়াজুড়ী উপজেলার জগন্নাথপুর. নুরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে অবস্থিত দরুন্দা খালটি মদন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়েছে। গত ৩ জুলাই হাওরাঞ্চলে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঘোষণা দেন, দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের স্বার্থে এ বছর হাওরের সব খাল, বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখা হবে। একই অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, হাওরে কোনো ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো জলাশয় ইজারা দেওয়া হবে না। তিনি স্থানীয়দের অন্তত ছয় মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘোষণার পরও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী চক্র দরুন্দা খালকে ‘খাস কালেকশন’-এর আওতায় এনে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। এতে সরকারের ঘোষিত উন্মুক্ত জলাশয় নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি সৈয়দ আমিনুল হাসান (রুজেল) বলেন, “ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নির্দেশে আমি খালে ফিশিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। তবে মাননীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য যেহেতু জলাশয় উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী খাল উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আমার বিরুদ্ধে শামুক উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে রয়েছে।”খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিদুজ্জামান বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাওরের সব জলাশয় উন্মুক্ত রেখে মাছের প্রজনন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শামুক উত্তোলনের নামেও ধরা হচ্ছে মাছ । তবে জেলেদের নিকট থেকে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

