জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:
জামালপুরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকদের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং চেক জালিয়াতির মামলায় জুয়েল শেখ (৪০) নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জামালপুর থানা পুলিশ। গতকাল রাতে কেন্দুয়া ইউনিয়নের কুটামনী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জুয়েল শেখ পৌর শহরের পশ্চিম নাছিরপুর এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়েল শেখ দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার জঙ্গলপাড়া বোর্ডঘর এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি খুলে, নিম্নআয়ের মানুষদের কাছ থেকে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে লভ্যাংশ বা আসল টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রাহকদের চাপের মুখে তিনি বেশ কয়েকজনকে ব্যাংকের চেক প্রদান করেন। কিন্তু অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় গ্রাহকদের দেওয়া সেই চেকগুলো ব্যাংক থেকে ‘ডিজনার’ (প্রত্যাখ্যাত) হয়। পাওনাদারদের মধ্যে বগালী শরিফপুর এলাকার আব্দুল কদ্দুস মাষ্টারের ছেলে মামুন বিডিআর ২০২৪ সালে আদালতে চেক জালিয়াতির মামলায় দায়ের করেন। গেল ৫ মাস আগে উক্ত মামলায় আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে জুয়েল শেখ পালিয়ে বেড়াচ্ছিলো। এমতাবস্থায় গত শনিবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, জুয়েল শেখ পরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। টাকা ফেরত না পেয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়া বেশ কয়েকজন গ্রাহক জুয়েলের বিরুদ্ধে আদালতে ও থানায় পৃথক চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের করেন।
মামালার বাদী মামুন বিডিআর বলেন, জুয়েল শেখের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ৬ লাখ টাকা পাই। তিনি আজ কাল করতে সময় অতিবাহিত করেও টাকা না দেওয়ায় মামলা দায়ের করেছিলাম। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
ওই এলাকার মিজান নামে আরেকজন বলেন, আমিও তার কাছে ৪ লাখ টাকা পাই। সে টাকা না দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
একই অভিযোগ করে বিদ্যুৎ মিয়া নামে আরেকজন বলেন, আমিও ৪ লাখ টাকা পাই। জুয়েল টাকা না দিয়ে গোপনে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, জুয়েল শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা গ্রেফতারী পরোয়ানা ছিলো । তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

