তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা সফর শেষ করে ঢাকা ছেড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সফরের শেষ দিন শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
বৈঠক শেষে যৌথ আশাবাদ ব্যক্ত করে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর জানান, ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব জোরদারে দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করলে সুনির্দিষ্ট সাফল্য অর্জন সম্ভব।” সফরকালে তিনি শিগগিরই একদল মার্কিন বিনিয়োগকারীর বাংলাদেশ সফরের ইঙ্গিত দেন। বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সাংবাদিকদের জানান, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পর্যালোচনায় আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন। তারা সরকারের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে একের পর এক ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবেন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে শুক্রবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সার্জিও গোর। এর ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ইস্যুতেও আলোচনা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন এই প্রতিনিধি। সফরসূচির ফাঁকে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গেও একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নির্বাচন পরবর্তীতে নতুন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সে দিক থেকেও এই সফরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার গঠনের পর ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ (এআরটি) বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন। মার্কিন বিশেষ দূতের এই সফরের মাধ্যমে এআরটি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও সার্বিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

