মোঃ মনজুরুল আলম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:
রংপুর বদরগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট ব্রীজ সংলগ্ন যমুনেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের হিরিক পড়ে গেছে, এ যেন ঈদের উৎসবের মতো প্রতি সন্ধ্যার আগে থেকে শুরু করে ভোর অবধি বালু উত্তোলন কার্যক্রম চলমান থাকে, প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছেন, দেখার কেউ নাই স্থানীয় লোকজনদের কথা বিএনপি দলীয় কিছু অসাদু ব্যক্তি এ বালু উত্তোলন করতেছে, গতকাল ৫ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যা রাতের তথ্য চিত্র।
এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে বালু উত্তোলনের জায়গাগুলোতে গভীর খালের রূপ ধারণ করেছে, এ কারণেই এই নদীতে পরপর তিনজন গোসল করতে নেমে বালুর চরে আটকা পরে মৃত্যুবরণ করেছে। এ বিষয়ে কিছু তথ্য , গেলো ১ মে শুক্রবার দুপুর পৌনে একটার দিকে মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর শাহ পাড়া গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে সুপ্ত রহমান (১৪) তার কয়েকজন বন্ধু সহ কুতুবপুর ইউনিয়নের নাগেরহাট ষমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে আসলে নদীর অবৈধ বালুর গভীর গর্তে পড়ে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র সুপ্ত মারা যায়। বালুর ঐ গর্ত থেকে ২৯ ঘন্টা পর লাশ হয়ে উঠে আসে সুপ্ত।
গত ২ মে শনিবার বিকেল সোয়া ৬টার সময় স্থানীয় জেলেরা সুপ্ত’ র মর*দেহ উদ্ধার করেন বালুর গর্ত হতে । দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিয়াস আলী, ওহিদুল ও জামানের বালুর পয়েন্টের গর্তে পড়ে প্রাণ গেছে ইসাহাক নামে আরো একজনের । যমুনেশ্বরী নদীর অবৈধ বালুর অসংখ্য গভির গর্ত গুলো যেন এখন মৃত্যু কুপে পরিনত হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে নিহত সুপ্ত রহমানের বাবা-মায়ের পরিবার সহ এলাকাবাসী বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। নিহতের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় তার সহপাটিরা সহ পুরো গ্রামের মানুষ স্তদ্ধ। লাশ পৌছানোর পর সেখানে এক হ্নদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে।
ঐ গ্রামের বাসিন্দা শাহ হান্নান বলেন অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করছে অথচ তাদেরকে আইনের মুখোমুখি করতে না পারাটা প্রশাশনের ব্যর্থতা।
বালু নেটওয়ার্ক সিন্ডিকেটের সদস্যরা কি প্রচলিত আইনের উর্ধে? একই এলাকার বুলবুল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তাবাবুরা শক্ত অবস্থানে থাকলে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু তুলতে পারত না। বালু মহল গুলো ইজারা দেয়া হলে সরকারের কোষাগারে চলে যেতো কোটিকোটি টাকা। এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ওহিদুল , ইলিয়াস সহ উপজেলা পর্যায়ের নেতা কর্মিরা।
প্রতিদিন তাদের কাছে চলে যায় বালু বিক্রির বড় অংকের টাকা। বালু লুটপাট বন্ধ না হওয়ার পিছনে ঐ সব নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে বিএনপির একাধিক সুত্র জানান।
কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির তথ্য বলছে একাধিক মাদক মামলার আসামী ইলিয়াস আলী সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছে ।
সে দলী ও পরিচয় ব্যবহার করে বালু ডাকাতি সহ নির্বিঘ্নে ইয়াবার ব্যবসা কেনা বেচা করে আসছেন। অভিযোগ আছে থানা পুলিশের পকেটেও চলে যায় বালু ও মাদকের টাকা। এছাড়া ও তথাকথিত বদরগঞ্জের সাংবাদিকরা এই টাকার একটি অংশ পেয়ে থাকেন বলে দাবী করেন ওহিদুল ও ইলিয়াস আলী। রংপুর জেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি শ্রী উত্তম কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন দলের পদধারী কেউ দলীও শৃংখলা ভঙ্গ করে কোন ধরনের অপকর্মে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক সেই আদর্শকে বুকে লালন করি।
ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুকুল জানান এটি ভিষন দুঃখ জনক ঘটনা, এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হোক এটা আমাদের সকলের চাওয়া এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা।

