আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বরো টাওয়ার হ্যামলেটসে আগামী কাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সময় সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটগ্রহণ। এবারের নির্বাচনে মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মেয়র পদে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদের লড়াইয়ে যে চার বাংলাদেশি প্রার্থী রয়েছেন, তারা হলেন:
লুৎফর রহমান (এসপায়ার পার্টি), সিরাজুল ইসলাম (লেবার পার্টি), আব্দুল হান্নান (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি)
ব্যারিস্টার জমির আলী (টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি),
কাউন্সিলর পদেও ব্যাপক উপস্থিতি শুধু মেয়র পদেই নয়, কাউন্সিলর পদেও বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ৪৫টি কাউন্সিলর পদের জন্য লেবার পার্টি ও এসপায়ার পার্টি থেকে ৪৫ জন করে এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি থেকে ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের ঘরে ঘরে গণসংযোগ ও প্রচারণায় এখন সরগরম লন্ডনের রাজপথ।
এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে এসেছে: পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভিসা জটিলতা ও নাগরিকত্ব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস ভোটারদের কাছে বড় ইস্যু। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রার্থীদের মূল এজেন্ডা। টাওয়ার হ্যামলেটসে বিপুল সংখ্যক সিলেটি বংশোদ্ভূত ভোটারের উপস্থিতি নির্বাচনে আঞ্চলিকতার প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার জমির আলীর মতে, ভবিষ্যতের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নয়নের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া জরুরি। অন্যদিকে, একই দলের কাউন্সিলর প্রার্থী হিরা দেলোয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে বলেন, “এখানে জয়ী হতে শুধু বাংলাদেশি নয়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোট প্রয়োজন। আর সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—এখানে নির্বাচন করতে কাড়ি কাড়ি টাকার প্রয়োজন হয় না।”
সাধারণ ভোটাররা কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রার্থীদের অতীত কাজের রেকর্ড, সততা ও জবাবদিহিতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই জয়যাত্রা লন্ডনের মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

