জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), যা ইতিমধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।
বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কমিশনের সভায় পিডিবির এই প্রস্তাব আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবের মূল দিকগুলো হলো:
প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব। বর্তমানে পাইকারি দাম ইউনিট প্রতি ৭ টাকা ৪ পয়সা।
পাইকারি দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। বর্তমানে গড় খুচরা দাম ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। এই মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে পিডিবি বছরে ১০ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয় করতে চায়।
পিডিবি জানিয়েছে, দেশের মোট গ্রাহকের ৬৩ শতাংশই স্বল্প ব্যবহারকারী (লাইফলাইন গ্রাহক, যারা ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন)। সরকারের পরিকল্পনা হলো:
স্বল্প ব্যবহারকারীদের ওপর দাম না বাড়িয়ে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপানো।
এতে মূলত ৩৭ শতাংশ উচ্চ ব্যবহারকারী গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। গত অর্থবছর বিদ্যুৎ খাতে রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
সরকার গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি রয়ে গেছে। নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) যথাক্রমে খুচরা দাম ও সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন:
“বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ আছে (যেমন অপ্রয়োজনীয় ক্যাপাসিটি পেমেন্ট)। এসব খরচ না কমিয়ে কেবল দাম বাড়ানো কোনো সমাধান নয়। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপের পাশাপাশি আগের সরকারের সাথে বর্তমান সরকারের কোনো পার্থক্য থাকে না।”
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানি আয়োজন করা হবে। সেই শুনানিতে পিডিবিকে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।

