বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বার্মিজ গরুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের স্থানীয় নেতা ও মাদক কারবারের কথিত গডফাদার সৈয়দুল বশরের নেতৃত্বে এই হাট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অবৈধ এই হাটকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘুমধুম প্রবেশপথের টিভি টাওয়ার এলাকায় বিশাল এই বার্মিজ গরুর বাজার বসানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা হাজার হাজার গরু ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গরুর ব্যবসার আড়ালে মূলত ইয়াবার বিশাল চালান পাচার করা হচ্ছে। প্রতি বছর এই হাটের মাধ্যমে সিন্ডিকেটটি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৪ মে ২০২৪ তারিখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৈয়দুল বশরের গরুর হাট ইজারা চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে পুনরায় ইজারা পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লবিং চালিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে এই হাট বসানোয় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দুল বশর জানান, তিনিসহ আরও কয়েকজন ইজারা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে জেলা পরিষদ তার আবেদন বাতিল করায় তিনি অন্য পক্ষকে যেন ইজারা দেওয়া না হয়, সেজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার মোটা অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, হাটের পাশেই পুলিশ ক্যাম্প এবং বিজিবির চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও এই অবৈধ কর্মকাণ্ড কীভাবে চলছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সর্দার জানান, হাটটি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, অবৈধ হাটের খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকালও ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার থেকে গরু ও ইয়াবার চালান পাচার করতে গিয়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন স্থানীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। মাদক ও চোরাচালানের এই ভয়ংকর সিন্ডিকেটের কারণে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

