সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ফার্নিচার,দুটি এসি এবং প্রায় ১৫টির মতো সিলিং ফ্যান নিখোঁজ থাকার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে এসব জিনিসপত্র না থাকলেও কে বা কারা সরিয়েছে-তা পরিষদের কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
তবে পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ চন্দ্র দাসের দিকে। তাদের দাবি,সরকারের পরিবর্তনের পরপরই কার্যালয়ের এসব মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই নিশ্চিত হয়নি।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়,২০০৯ সালের পর স্থায়ী কার্যালয় না থাকায় তখন চেয়ারম্যানের আবাসিক ভবনকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরবর্তী চেয়ারম্যান আছকির খান দায়িত্ব নিলে তিনি ওই কক্ষ ব্যবহার না করে কর্মচারীদের বিনোদনকেন্দ্রকে নতুন কার্যালয়ে রূপান্তর করেন। ২০১৮ সালে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহজাহান খান সেই কক্ষেই আধুনিকায়ন করেন-নতুন ফার্নিচার, থাই গ্লাস, এসি ইত্যাদি স্থাপন করা হয়।
পরে পরিষদের নতুন চারতলা ভবন নির্মিত হলে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কার্যালয় সেখানে স্থানান্তর করা হয়। নতুন ভবনের কার্যালয়েও প্রয়োজনীয় ফার্নিচার,এসি ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়,চেয়ারম্যান কার্যালয়ের এসব সামগ্রী আর নেই। পাশাপাশি পরিষদের হলরুমে নতুন করে সাজসজ্জার কাজ শুরু হলে সেখানে থাকা ১৫টিরও বেশি সিলিং ফ্যানও পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিষদের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কার্যালয় ফাঁকা। ফার্নিচার,এসি-কিছুই নেই। হলরুমের ফ্যানগুলোও নেই। কে সরিয়েছে-কেউই বলতে পারছে না।”
এ বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ জোহরা জানান,“আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় দুইটি রুম যেমন ছিল,এখনও তেমনই আছে। ফার্নিচার বা এসিগুলোর কী হয়েছে-তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”

