মোঃতাইজুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকার জেলেরা দিন দিন মাছ ধরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। ফলে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জেলে পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির আশঙ্কার মুখে পড়েছে।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় বলেশ্বর নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। নদীতে দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
জেলেরা জানান, দাদোন প্রথার কারণে তারা মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে সংসার চালানো ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে নদীভাঙনের কারণে অনেক জেলে পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তারা আরও বিপাকে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে কেউ কৃষিকাজ, কেউ দিনমজুরি, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দাদোন প্রথা নিয়ন্ত্রণ, সহজ শর্তে সরকারি সহায়তা এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অনেকেই আবার জেলে পেশায় ফিরে আসতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে শরণখোলার বলেশ্বর তীরের ঐতিহ্যবাহী জেলে সম্প্রদায় ও তাদের পেশা একসময় হারিয়ে যেতে পারে।

