স্টাফ রিপোর্টার :
আব্দুস সালাম মোল্লা। ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে পাঁচটি মামলায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোড়কবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, ফরিদপুরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স চরভদ্রাসন উপজেলায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।
অভিযানে আদর্শ স্কুল রোডের মারকাযুন নূর ইসলামিক স্টোর-এ মোড়কবিহীন দই, মাঠা, ঘি, আইসক্রিম ও মধু বিক্রির অপরাধে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মোড়কবিহীন পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
চরভদ্রাসন বাজারের তরুণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এ মোড়কবিহীন দই ও মিষ্টিজাত পণ্য বিক্রির দায়ে ২ হাজার টাকা এবং ভাই ভাই মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এ ওজনে কারচুপির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া আদর্শ স্কুল রোডের ইনভাইট ফাস্টফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদ না থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সবচেয়ে বেশি জরিমানা করা হয় আধুনিক ফার্মা-কে। প্রতিষ্ঠানটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য ও ওষুধ পাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানকালে চরভদ্রাসন আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর অভ্যন্তরীণ ল্যাবের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সন্তোষজনক পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং খন্দকার গৌরব মুস্তাফা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই ফরিদপুরের পরিদর্শক (মেট) মো. খালিদ হাসান ও ফিল্ড অফিসার (সিএম) প্রকৌশলী এস. এম. সোহরাব হোসেন।
বিএসটিআই ফরিদপুর জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল ও অনিয়ম রোধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

