বিশ্বকাপের মাঝপথে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর ম্যাচের ঠিক আগে মার্কিন দলের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেছে ফিফা। তবে কেন এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের টিম ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল। তারা বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
ফিফা তাদের শৃঙ্খলাবিষয়ক তালিকায় দুই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করলেও শাস্তির নির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। অন্যদিকে ইউএস সকার ফেডারেশনও বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর ফিফার কাছেই চাওয়া উচিত বলে জানিয়েছে।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র দলকে ঘিরে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে সেই বিতর্কের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ইউএস সকার জানিয়েছে, কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ঘটনা বালোগুন ইস্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্ভবত ফিফার ম্যাচ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রটোকল বা অনুমোদনবিহীন প্রবেশাধিকার (access) লঙ্ঘনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এই বিতর্কের মধ্যেই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার ঘটনাও বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো দেশের দুই সিনিয়র কর্মকর্তাকে হঠাৎ সাময়িক বরখাস্ত করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে ফিফা যখন এর কারণ প্রকাশ করছে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ ছিল এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পূর্ণ বিবরণ কী—সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

